নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় বিয়ের আসরে মালা পরানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরকে আটক করেছে কনের পরিবার। শুক্রবার রাতে উপজেলার কাঠালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ দেশীবাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলঢাকা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বগুলাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ ও শেফালী বেগম দম্পতির ছেলে গোলাম রব্বানী (২৪)-এর সঙ্গে একই ইউনিয়নের ফেরদৌস আলমের মেয়ে ফেরদৌসী আক্তার (১৮)-এর প্রায় তিন মাস আগে বিয়ে সম্পন্ন হয়। শুক্রবার ছিল কনে বিদায়ের দিন। এ উপলক্ষে বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে আসেন বর।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বর ও তার আত্মীয়দের গলায় শালীদের মালা পরানোকে কেন্দ্র করে লেনদেনের বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজনার একপর্যায়ে বর গোলাম রব্বানী নিজের মাথার মুকুট ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন এবং কনের কানের দুল খুলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে কনের পক্ষের লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কনের বাবা ফেরদৌস আলম বলেন, “আমার মেয়ে এখনো শ্বশুরবাড়িতে যায়নি। এর মধ্যেই ছেলের এমন আচরণে আমি সন্তুষ্ট নই। মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা করছি। তাই মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে না পাঠিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, বিয়ের মোহরানা বাবদ ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা, যৌতুক বাবদ ৩ লাখ টাকা এবং বিয়ের খরচ ৪ লাখ টাকা মিলিয়ে মোট ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে বরকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এইচএস/আরএন