বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর বন্দর বাজারে আগুনে ১০টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।
আমতলী ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ৯৯৯-এ গাজীপুর বাজারে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
স্থানীয় শিক্ষক মো. লতিফ হাওলাদার বলেন, গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ি ও গাজীপুর বন্দর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গাজীপুর বাজারের ৬টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ফোরকান মৃধার মোদি-মনোহারি দোকান, আমির মোল্লার মোদি-মনোহারি দোকান, রাজ্জাক হাওলাদারের মোদি-মনোহারি দোকান, দুলাল মুসুল্লীর চায়ের দোকান, হাসান মুসুল্লীর মোদি-মনোহারি দোকান এবং হালিম তালুকদারের মোদি-মনোহারি দোকান।
এ ছাড়া আগুনে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৪টি দোকান। এর মধ্যে রয়েছে আব্দুল লতিফ মীরার মোদি-মনোহারি দোকান, হানিফের মোদি-মনোহারি দোকান, মাসুদের মোদি-মনোহারি দোকান এবং নাসিরের মোদি-মনোহারি দোকান।
লতিফ হাওলাদার আরও বলেন, ফোরকান মৃধার দোকানের দ্বিতীয় তলার আবাসিক হোটেলে সিরাজগঞ্জের আবদুল্লাহ ও জিন্নাহ নামে দুই তরমুজ ব্যবসায়ীর নগদ ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকাও আগুনে পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ জানান, বাজারের দক্ষিণ পাশে দুই রাস্তার ঢালে দুলাল মুসুল্লীর চায়ের দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঈদের আগে হঠাৎ এমন আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেরই বছরের সঞ্চয় ও ঋণ করে ঈদকেন্দ্রিক পণ্য দোকানে মজুদ ছিল, যা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারি ভাবে সহযোগিতা করা হবে।
এসকে/আরএন