খুলনা জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শামীম কবিরের নেতৃত্বে একদল যুবক নিরালার আশ্রয় ফাউন্ডেশনের অফিসে হামলা চালিয়েছে। রোববার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ৩ নং নিরালা আবাসিক এলাকার ওই অফিসে হামলা চালায়।
ঘটনার পর পর জেলা যুবদলের সাবেক ওই নেতা অফিস প্রধান শেখ রবিউল ইসলামের কাছে ক্ষমা চাইলেও তিনি আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ৪-৫ মোটরসাইকেলযোগে একদল যুবক নিরালা আবাসিক এলাকার ৩ নং রোডের আশ্রয় ফাউন্ডেশনে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময়ে তারা ওই অফিসের দরজা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলে এবং অফিস প্রধানকে উদ্দেশ্যে করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। কিন্তু কি কারণে এ হামলা ও গালিগালাজের ঘটনা তা স্থানীয়রা বলতে পারেননি।
আশ্রয় ফাউন্ডেশনের অফিস প্রধান শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, 'আমার ছোট ভাই আল হেলাল ও খুলনা জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শামীম কবির একসাথে ঠিকাদারী ব্যবসা করেন। রোববার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে যুবদলের নেতা আমাকে ফোন করে বলেন- আপনার ছোট ভাইকে ঝুলিয়ে পিটাবো। আমার টাকা মেরে দিয়েছে। আমি সাথে সাথে বিষয়টি আমার ছোট ভাইকে জানাই এবং তাকে অবগত করি তার সাথে কোনো দেনা পাওনা থাকলে তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলার জন্য।'
তিনি বলেন, 'শামীম কবীরের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই বা কারও সাথে কোনো শত্রুতা নেই। দেখা হলে কথা হয়।
তিনি আরও বলেন, 'পরবর্তীতে অফিস সহকারী আমাকে জানান- কয়েকজন যুবক এসে অফিসের সামনে গালিগালাজ করছে। অফিসের চেয়ারে বসামাত্র ৪-৫টি মোটরসাইকেলে আসা যুবক অকথ্য ভাষায় গালি দেয় যা পেছনের দরজা থেকে শুনতে পাই। সামনের দরজা আটকে রাখি। কিন্তু তারা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলে। তাদের মধ্যে একজন উপস্থিত যুবকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। ঘটনার পর আমি ৯৯৯ এ ফোন করি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।'
শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, 'শামীমের নেতৃত্বে এ হামলাটি হয়েছে। ছোট ভাইয়ের সাথে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থাকলে তা তার সাথে হবে কিন্তু আমার অফিসে এসে এ হামলা কেন? এ ঘটনার পর থেকে রবিউল ইসলাম আতঙ্কিত রয়েছেন।' পরবর্তীতে এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
খুলনা থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান বলেন, 'ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয় নিয়ে এ হামলার ঘটনা। পরবর্তীতে জানলাম ঘটনাটি উভয়পক্ষ থেকে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।'
এসএম/এমএ