বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী বাজারে খালের ওপর ঢালাই সেতুটির মাঝখানের কিছু অংশ ১২ বছর আগে ভেঙে পড়ে। সেখানে কাঠের পাটাতন দিয়েছে এলাকাবাসী। এর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ৫৬টি গ্রামের সাধারণ মানুষ শিক্ষার্থী ও পার্শবর্তী পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার লেকজন ও যানবাহন চলাচল করছে। এতে এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, লোহার কাঠামোর ওপর ঢালাই দিয়ে ২০০৭ সালে সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু ২০১৪ সালে সেতুর মাঝ বরাবর কিছু অংশ ভেঙে পণ্যবাহী একটি ট্রলি নদীতে পড়ে যায়। ওই অংশ আজও সংস্কার করা হয়নি। এ কারণে এলাকার অন্তত ৩৫/৪০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। প্রতিদিন ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাহবুব আলম মোল্লা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর ওই ভাঙা অংশের কাঠের পাটাতন নড়বড়ে। সেতুর উত্তর প্রান্ত দেবে গেছে।
সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী যুথী জানায়, 'আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছি। কোন সময় ভেঙে পড়ে ঠিক নেই।’
হাসিব নামের এক ছাত্র জানায়, ‘প্রতিদিন আমাদের এই ভাঙা সেতু দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়।’
একই এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ুন তালুকদার বলেন, ‘সেতুটির অংশ বিশেষ ভেঙে পড়ায় এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরীভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।’
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পরই উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়। কিন্তু ১২ বছরেও মেরামত করা হয়নি। স্থানীয় ভাবে ভাঙা অংশে কাঠের পাটাতন দেওয়া হয়েছে। ওই পাটাতন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে।’
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস বলেন, ‘সেতুটির বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ভাঙা অংশ মেরামত করা যায়নি। আমরা ওখানে একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করছি।’
এসকে/এমএ