ভারতে পাচার হওয়ার দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিখোঁজ থাকা মো. রেজাউল ইসলাম অবশেষে নিজ গ্রাম কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা-এর বাদিয়ারছড়ায় ফিরে এসেছেন। শৈশবের স্মৃতি, স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা আর দাসত্বের মতো এক অজানা জীবনের সংগ্রাম পেরিয়ে তাঁর এই ফেরা এখন পুরো গ্রামের আবেগঘন গল্প।
বাদিয়ারছড়া গ্রামের মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রেজাউল ইসলামকে ফিরে পেয়ে স্বজনদের চোখে জল, মুখে স্বস্তির হাসি। খবর পেয়ে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা তাকে একনজর দেখতে কুদ্দুস মিয়ার বাড়িতে ভিড় জমান। কেউ কেউ তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে হঠাৎ করে নিখোঁজ হন রেজাউল ইসলাম। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে একসময় পরিবার আশা ছেড়ে দেয়।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রেজাউল ইসলাম জানান, ২০০১ সালে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীরা তাকে সীমান্ত পার করে ভারতে নিয়ে যায়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। সেখানে একটি দুর্গম এলাকায় একটি গরুর খামারে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। ওই খামারে তাকে অমানবিক পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হতো। দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় কাজ করলেও কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। কাজের বিনিময়ে কেবল তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো এবং কড়া পাহারায় রাখা হতো তাকে। কার্যত দাসত্বের মতো জীবন কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
কয়েকদিন আগে সুযোগ বুঝে খামার থেকে পালিয়ে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান রেজাউল। সেখানে তিনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের কাছে নিজের করুণ কাহিনী তুলে ধরে বাংলাদেশে ফেরার আকুতি জানান।
রেজাউলের দাবি, তার দীর্ঘ বন্দিজীবনের কাহিনী শুনে মানবিক হয়ে ওঠেন বিএসএফ সদস্যরা। তারা তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ হিসেবে দেখিয়ে এবং কিছু অর্থ দিয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেন।
দীর্ঘ আড়াই দশক পর বাড়ি ফেরায় বাদিয়ারছড়া গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে রেজাউলের বাবা কুদ্দুস মিয়া ও পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত। তাদের ঘরে এখন বইছে ঈদের আনন্দ।
পিএমএস/এসআর