ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত করা হবে, যেখানে হিংসা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৫৪ বছরের মাফিয়া শাসন ও অনিয়মের অস্তিত্ব শেষ করার ঘোষণা দেন। এসময় প্রশ্ন তুলে বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে। তারা কিভাবে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিবে! কিন্তু জামায়াতে ইসলামী জুলাই পরবর্তী সময়ে মানুষের পাশে থেকে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপত্তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, আগামীতে জামায়াত ইসলাম সরকার গঠন করলে আমার মায়েরা বোনেরা নিরাপদে চলতে পারবে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা হবে ইনশাআল্লাহ।
শনিবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর ফুটবল মাঠে উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এক নির্বাচনী জনসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ভিপি সাদিক কায়েম এসব কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের সৈনিক শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচারের দাবিতে উপস্থিত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দেন। বিগত সময়ে সাতক্ষীরায় চরম জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাতক্ষীরার চারটি আসন জামায়াতের আমীরের উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার দিনভর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও দেবহাটায় পৃথক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
অনুষ্ঠিত প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেলারেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাওঃ এইচ.এম. আব্দুল হালিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী সিবগাতুল্লাহ সিবগা। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনার জামায়াতের মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল, সেক্রেটারী আজিজুর রহমান সহ আরো অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়। আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, দখলদার ও চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
শ্যামনগরকে উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ জনপদ উল্লেখ করে বক্তারা টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উপকূল সুরক্ষা নিশ্চিত করণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পাশাপাশি রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, রাস্তাঘাট সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এমজেডআর/এসআর