জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ৫ আগস্টের পর নতুন কোনো জালিমের আবির্ভাব দেখতে চায় না। যারা নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু করেছে, নতুন করে জমি দখল শুরু করেছে, নতুন করে মানুষকে নির্যাতন করছে, পাথর মেরে মানুষকে হত্যা করছে—তারা আইনত জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হবে ঢাকা থেকে, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ করবে এ দেশের জনগণ। দিল্লির তাবেদারি যারা করে এসেছে এবং নতুন করে দিল্লির তাবেদারি যারা করতে চায়, তাদের রাজনীতি বাংলাদেশে আর কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না। আমরা জীবন দিয়েছি, আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত আছি; কিন্তু আজাদি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা এক বিন্দুও ছাড় দেব না।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির বিচারের প্রশ্নে আমরা এক বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। শরিফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করতে না পারা এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারা—এই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। এখনও সময় আছে—শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে যাতে কোনো ধরনের অসম্মান করা না হয় এবং অতিসত্বর এই বিচারের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি শেরপুরে আমাদের এক ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করে লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায় পুরোনো কায়দায়, ফ্যাসিস্টদের কায়দায়—তাদের রুখে দেওয়ার দিন হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
আমাদের মা-বোনদের তারা ভয় পাচ্ছে, কারণ আমাদের মা-বোনেরা, নারীরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করে ফেলেছে। আমাদের তরুণ সমাজও গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। ফলে তারা সেই গণজোয়ারকে ভয় পাচ্ছে। আমাদের মা-বোনদের তারা টার্গেট করছে, তাদের ওপর আক্রমণ ও হেনস্তার চেষ্টা করছে, প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি দল অনেকগুলো দলকে নিজেদের পেটের ভেতরে নিয়ে নিয়েছে, বহুদলীয় গণতন্ত্রকে নষ্ট করে দিয়েছে। সেই দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা বলছি, সেই হুমকি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই আমরা ৫ আগস্ট ঘটিয়েছিলাম; আমরা কোনো হুমকি ও রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। সেই দলের নেতা যখন দেশে এসে নামলেন, তিনি বললেন তার একটি প্ল্যান রয়েছে। আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি—প্ল্যান থাকলে প্ল্যান শেয়ার করে চাই বাংলাদেশ পরিবর্তন হোক। আমরা সম্প্রীতির রাজনীতিই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, কোথায় চিনিকল আছে, কোথায় নেই; কোথায় ইপিজেড আছে, কোথায় নেই; কোনটা বাণিজ্যিক রাজধানী, কোনটা কী হবে; কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ বেশি হয়—তিনি কিছুই জানেন না। যার দেশ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, যিনি ১৬–১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, যিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন—তার দেশ নিয়ে কী প্ল্যান রয়েছে, সেটি জনগণ বুঝে গেছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষকে আর কোনো প্রতারক, আর কোনো বেঈমানের কাছে দেশের ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিতে চাই না।
বাংলাদেশের মানুষ এখন নতুনদের সুযোগ দিতে চায় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আপনারা বাংলাদেশে যা করেছেন, সেটাই আপনাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। কথা দিচ্ছি—যদি আমাদের বিরুদ্ধেও ভোট দেন, আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য আমরা জীবন দিয়ে দেব, ইনশাআল্লাহ। আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসবেন, ভোট দেবেন; কিন্তু কেউ যদি ভোট চুরির চেষ্টা করে বা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, তার পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এমন কোনো চেষ্টা করা হলে আরেকটি ৫ আগস্টের বিপ্লব ঘটে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
আয়োজিত জনসভায় ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক হাসান মাহবুব মাস্টারসহ স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ওএফ/আরএন