জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘০৫ আগস্টের আগে দেশে অহরহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিজয়ী হলে দেশে আর কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে না।’
শুক্রবার সকাল ১০টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের কোনো মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হবে না। দেশে অনেক নিরীহ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এর আগে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা নিজেদের দল সামলাতে পারেন না, তারা কীভাবে দেশ চালাবেন। ০৫ আগস্টের পর তারা নিরীহ মানুষদের মামলা দিয়ে খাজনাপাতি তুলেছেন। মানুষ তাদের প্রতি অতিষ্ঠ।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘জীবন দিতে রাজি আছি, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত দিতে রাজি নই। কেউ কেউ ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল, কিন্তু তা তাদের নিজেদের দিকেই পাল্টা গিয়েছে। আমি যেটা বলিনি সেটা নিয়ে তারা মিথ্যাচার করছে। আমরা দেশে মায়ের মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা বিজয়ী হলে দেশের সব মানুষ বিজয়ী হবে। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে সুন্দর একটা দেশ গঠন করতে। যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে। বিচার ব্যবস্থাও সবার জন্য সমান হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির ডাল আর পাতা ধরে টান দিবে না, আমরা ঘাড় ধরে টান দেবো। আমরা চাঁদাবাজি করতে দেবো না, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাটকে পাচার করেছে। সেই টাকা আনতে হলে যারা কোনো লুটপাটের সঙ্গে নাই তাদের ক্ষমতায় আনতে হবে। যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত তারা এই টাকা আনতে পারবে না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসলে বিচার হবে সবার জন্য সমান, সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে বিচার, রাষ্ট্রপতি অপরাধ করলেও একই বিচার হবে। সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো অফিসে যেতে পারেনি। আমাদের সংগঠন নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। একটামাত্র দল যাদের হাজার কর্মীকে আটক করা হয়েছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারপরও তারা জনগণের জন্য কাজ করে গেছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের হাতে অঢেল সম্পদ ছিল না, কিন্তু ঝড় জলোচ্ছ্বাসে পাশে থেকেছি। ৫ তারিখের পর আমরা যখন সুযোগ পেয়েছি তখন আমরা বলেছি কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেইনি। কোনো মামলা করিনি। আমরা মানুষের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ প্রথম ভোট হবে গণভোট, হ্যাঁ ভোট। পরের ভোট হবে দাঁড়িপাল্লায়, একটা বার সুযোগ দেন, কোনো ধর্মের বর্ণের বৈষম্য থাকবে না। যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী দেশটা গড়বো। এ বাংলাদেশ থাকবে, তবে এর চরিত্র বদলে যাবে, এটা হবে গণমানুষের বাংলাদেশ।’
এমএ