কুড়িগ্রাম-তিস্তার মাঝপথে রাজারহাট রেল স্টেশনের সাথেই পশ্চিমে রেল লাইন ঘেষে অস্থায়ী কাঁচা বাজারের হাট বসিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ঝুঁকি নিয়েই ক্রেতারা এখানে বাজার করতে আসেন। এর ফলে যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।
অতি লাভের আশায় গত দুই বছর ধরে রেল লাইনের উপর কাঁচা বাজার বসিয়ে ব্যবসা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরানের নেতৃত্বে পুলিশ ও আনসার বাহিনী তাদের সরিয়ে দিলেও তারা আবারও দেদারছে ওই রেল লাইনের উপরেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিন দিন রেল লাইনের উপর বাজার আরও প্রসারিত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রমনা লোকাল ট্রেন রাজারহাট রেল স্টেশনে তিস্তা অভিমুখে অবস্থান করছে। আর কাঁচা বাজার লাইনের দু’ধারে বসিয়ে জমজমাট ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা। লাইনের পাশ দিয়ে কাঁচা সবজি বহনকারী অটোরিকশা ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করছে। ট্রেন ছেড়ে দিলেই হয়তো ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সবজি ক্রয় করছেন ক্রেতারা।
প্রতি শনিবার ও বুধবার রাজারহাট বাজারে হাট বসে। বহু বছর ধরে রাজারহাট বাজারে ভেতরে ও আশপাশে হাট বসলেও রেল লাইনের মাঝপথে কিংবা ধারে কোনো বাজার বসেনি। কিন্তু গত দুই বছর ধরে শনিবার ও বুধবার ভোর বেলায় সবজি ব্যবসায়ীরা রাজারহাট রেল স্টেশনের পশ্চিমে বাজার জামে মসজিদ থেকে শুরু করে পশ্চিমে হাসপাতাল রেল ক্রসিং পর্যন্ত সবজির বাজার বসান। বাজার জমানোর জন্য স্বল্প দামে সবজি বিক্রি শুরু করেন। ধীরে ধীরে মানুষজন জানার পর ভেতরের গলিতে সবজি না কিনে লাইনের ধারের বাজারে কাঁচা বাজার করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। শুরু হয় লাইনের ধারে জমজমাট হাট।
ট্রেন আসা যাওয়ার সময় লাইনের উপর বসা দোকানগুলো এ দিক-সে দিক ছোটাছুটি করে। ট্রেন চলে গেলে আবার বাজার বসান ব্যবসায়ীরা। এভাবে চলতে চলতে এখন প্রায় প্রতিদিনই লাইনের ধারে কাঁচা সবজি বাজার বসানো হয়। এখানে প্রতিনিয়তই থাকে মানুষের ঢল। এতে করে বাজার করতে আসা মানুষের প্রাণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অসাধু কিছু ব্যবসায়ী রাজারহাট রেল স্টেশন থেকে শুরু করে হাসপাতাল রেল ক্রসিং পাড় পর্যন্ত রেল লাইনের বেশির ভাগ অংশ দখলে নিয়ে অস্থায়ী ভাবে গড়ে তুলেছে অবৈধ শতাধিক দোকানপাট।
রেল লাইনের উপর বসা সবজি ব্যবসায়ীরা বলেন, 'এখানকার ব্যবসা ভালো হয়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এখান থেকে সবজি কেনেন। বেশী বিক্রি হওয়ায় লাভ ভালো হয়।'
সবজি নিতে নাজিমখান এলাকা থেকে আসা মাহবুবুর রহমান বলেন, 'কখনো এখান থেকে সবজি ক্রয় করিনি। আজকে কিছুটা সস্তায় কিনলাম। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি আছে।'
এ ব্যাপারে রাজারহাট বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক চাঁদ মিয়া বলেন, 'বার বার নিষেধ করার পরও সবজি ব্যবসায়ীরা লাইনের উপর দোকান দিচ্ছেন।'
এ বিষয়ে রাজারহাট রেল স্টেশনের মাস্টার মো. সুমন মিয়া বলেন, 'কাঁচা বাজার বসার কারণে রাজারহাট বাজারের রেল লাইন এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এটা অবৈধ। দু’মাস আগে ইউএনও এসব দোকানপাট উচ্ছেদ করে দিয়েছিলেন। তারপরও তারা সুযোগ বুঝে বাজার বসাচ্ছে। এটি আসলে রেল ডিপার্টমেন্টের ‘আইডব্লিউ’ এ্যাকশন নিতে পারেন। আমি তাদের সহযোগীতা করতে পারি। ট্রেন আসার বার্তা গেটম্যান বেরিয়ার ফেললেই তারা পায়।'
ইউএনও মো. আল ইমরান বলেন, 'সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে প্রশাসন কি করতে পারে। আমি নিজে রেল লাইনের উপর কাঁচা সবজির দোকানপাট তুলে দিয়েছি। এবং তাদেরকে বিপদজ্জনক দুর্ঘটনার বিষয়ে অবগত করেছি। তারপরও তারা রেল লাইনের উপর দোকান দিচ্ছে। এটা রেল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।'
পিএম/এমএ