বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিযোগ করেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
একই সঙ্গে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলোর অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্বিতীয় দফা নির্বাচনি সফরে ব্যাপক জনসমাগমের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে কর্মসূচি কিছুটা বিলম্বিত হলেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে ৮৫ জন সাবেক সংসদ সদস্য এবং ১৯ জন এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২৩৭ জন প্রার্থী ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
নারী প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে ড. মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি এবার ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। যা নারীর ক্ষমতায়নে দলের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী হলেও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
বিগত সরকারের আমলে বিএনপি সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দলের প্রার্থীদের একটি বড় অংশ স্বৈরাচারী শাসনের নিপীড়নের শিকার।
ড. মাহদী আমিন বলেন, গুমের শিকার তিন ব্যক্তি—সালাহউদ্দিন আহমদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী—এবার বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি গুম হওয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি মনোনয়ন পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্মের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রতীককে জয়ী করাকে ‘ঈমানি দায়িত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং ভোট দেওয়ার বিষয়টিকে কবরের জবাবের সঙ্গেও যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাসকে এভাবে ব্যবহার করে ভোট চাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইন অনুযায়ী এটি ‘অসৎ প্রভাব বিস্তার’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ভোটারদের এনআইডি কার্ডের কপি, মোবাইল ফোন নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া ভোট প্রদান, মৃত ব্যক্তির নামে ভোট দেওয়া কিংবা আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি আমলে নেওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে কমিশনকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ড. মাহদী আমিন আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দা, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ায় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজ নিজ থানার বাইরে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আরএন