ক্ষমতার মোহে রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং জনগণকে গোলাম মনে করার প্রবণতা দেখা দিলে ‘জুলাইয়ের চেতনা’ বারবার ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবি পার্টি আয়োজিত প্রতীকী কফিন মিছিলের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ মিছিলে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা ১৯৭১ সালের শহীদদের প্রকৃত উত্তরসূরি। তারা জীবন ও রক্তের বিনিময়ে প্রমাণ করেছেন যে, দেশ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। তিনি বলেন, ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না’—জুলাইয়ের এই স্লোগান ভবিষ্যতেও জনগণকে অন্যায় ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে পথ দেখাবে।
তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কী অর্জন করেছে। এর জবাবে তিনি দাবি করেন, বিএনপি ও জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তিও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন এসব রাজনৈতিক দলের ওপর বর্তায়।
মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এখন তা বাস্তবায়নের সময় এসেছে। পাশাপাশি অতীতে ভুল করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, প্রকৃত শহীদদের স্বীকৃতি নিশ্চিত না হলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি অবিলম্বে একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত, ভুয়া নাম বাদ দেওয়া, শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং এ প্রক্রিয়ায় জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার দাবি জানান। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নাটক, চলচ্চিত্র এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রতীকী কফিন মিছিলটি রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড় ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় এবি পার্টির কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেবি