রাজশাহীর বাগমারায় ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের নামে টপসয়েল কেটে বিক্রি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং একটি এক্সকাভেটর অকেজো করে দেওয়া হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটখুজিপুর এলাকায় দুপুর ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রথম দফার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় দেখা যায়, ফসলি জমিতে অনুমোদনহীনভাবে পুকুর খনন করে উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) কেটে অন্যত্র পরিবহনের প্রস্তুতি চলছিল। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিবহনের সুযোগ না থাকায় পুকুর খননে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর অকেজো করে দেওয়া হয়।
অপরদিকে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বানাইপুর বিগোপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় দফার অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের মাধ্যমে টপসয়েল কাটার দায়ে শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বানাইপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৬) কে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা জানান, ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের ফলে কৃষিজমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে যায়। টপসয়েল অপসারণের কারণে জমিতে ফসল উৎপাদন কমে যায়, সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ে।
তিনি আরও জানান, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ পুকুর খনন এবং টপসয়েল কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এএইচ/আরএন