Tuesday | 2 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Tuesday | 2 June 2026 | Epaper
BREAKING: সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মার্কেট-শপিংমল বন্ধের নির্দেশ      প্রবীণ আ.লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন      পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ      ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষ      ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের      মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী      বাজেটের আগে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এক ধরনের ধোঁকাবাজি: জামায়াত আমির      

হিমাগার নেই, স্বপ্ন পচে যায় মাঠেই

কৃষকের ঘামে ফলানো সবজি বিক্রি হয় পানির দরে

প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩১ পিএম   (ভিজিট : ১৩৯)

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা—একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সবুজ মাঠ, টমেটোর লাল আভা আর কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম। এই উপজেলাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘কৃষি ভাণ্ডার’। প্রতি বছর এখানে রেকর্ড পরিমাণ আলু, টমেটো ও নানান মৌসুমি শাকসবজি উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেই উৎপাদনের আনন্দ বেশিদিন টেকে না। কারণ একটাই—হিমাগারের অভাব।

ফসল তোলার মৌসুম এলেই শুরু হয় কৃষকদের দুশ্চিন্তা। বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি আসায় দাম পড়ে যায় হুড়মুড়িয়ে। সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করতে হয় কষ্টার্জিত ফসল। অনেক ক্ষেত্রে বিক্রিও সম্ভব হয় না—মাঠেই পচে যায় টন টন সবজি। কৃষকদের প্রশ্ন একটাই আর কত বছর অপেক্ষা? হিমাগার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি তাদের ন্যায্যমূল্য, ঋণমুক্ত জীবন আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না এলে কমলগঞ্জে প্রতিবছরই মাঠে মাঠে পচে যাবে কৃষকের ঘাম আর স্বপ্ন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কমলগঞ্জের আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, ইসলামপুর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার, কমলগঞ্জ সদর ও রহিমপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভা এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়। বিশেষ করে টমেটো এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ফসল। অথচ পচনশীল এসব ফসল সংরক্ষণের জন্য নেই কোনো হিমাগার।

টমেটো চাষি আব্দুল মতিনের বলেন, ‘হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাই। কিন্তু রাখার জায়গা নেই বলে পানির দরে বিক্রি করতে হয়। একটা কোল্ড স্টোরেজ থাকলে ঋণ করে সংসার চালাতে হতো না।' 

একই কথা বলেন আরেক চাষি আব্দুল মন্নান। তার মতে, ‘ফসল মৌসুমে বাজারে চাপ বেশি থাকায় দাম পড়ে যায়। হিমাগারে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে কৃষক বাঁচত, বাজারও স্থিতিশীল থাকত।’

আলু চাষিরাও পড়েছেন ভিন্ন সংকটে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ‘বীজ সংরক্ষণের জন্য তাদের পাশের উপজেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। কমলগঞ্জে হিমাগার থাকলে নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করতে পারতেন। এতে খরচ কমত, উৎপাদন বাড়ত, বদলাতো স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে সরকারি পর্যায়ে হিমাগার নির্মাণের জন্য জায়গা নির্বাচন ও প্রাথমিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো আজও ফাইলবন্দী। কৃষকদের দাবির মুখে মাঝেমধ্যে আশ্বাস এলেও বাস্তব অগ্রগতি চোখে পড়ে না।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘টমেটোসহ বিভিন্ন পচনশীল শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সরকারিভাবে প্রস্তাবনা দেওয়া আছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের পরপরই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’

এসআর





LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close