ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
নালিতাবাড়ীতে তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির, বোরো বীজতলা নিয়ে শঙ্কা
✎ এম. সুরুজ্জামান
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২০ পিএম
X

শেরপুর জেলার পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ি এলাকায় হিমালয়ের হিমবায়ু আর মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে প্রচণ্ড শীতের মহড়া চলছে। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

শীতকালের পৌষ মাসের শুরু থেকেই এই তীব্র শীতের দাপট বাড়তে থাকে। বিশেষ করে গত প্রায় ১০–১১ দিন যাবৎ সারাদিনেও একবারও সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। শীতার্ত দরিদ্র, অসহায় ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষ কনকনে ঠান্ডায় কাজে যেতে পারছে না। বাড়িতে বসে বেকার সময় কাটাচ্ছেন। দিনের বেলায় তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি এবং রাতের বেলায় ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। এমনকি রাতের বেলায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশা পড়ছে।

একদিকে যেমন তীব্র শীত পড়েছে, অন্যদিকে শীতার্ত মানুষ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে প্রচুর পরিমাণে কষ্ট করছেন। কেউ কেউ শীত নিবারণের জন্য ফুটপাতের পুরাতন শীতের কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন। প্রচণ্ড শীতে গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র-অসহায় ছিন্নমূল মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট বেড়েছে দ্বিগুণ। প্রচণ্ড শীতের দাপটে ঠান্ডা-জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বমি ও পাতলা পায়খানাসহ শীতজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে শীতার্তদের মধ্যে। বর্তমানে হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

অপরদিকে, শৈত্যপ্রবাহের কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে কৃষক পড়েছেন মহাবিপদে। শহরের চেয়ে গ্রামগঞ্জে চলছে অনবরত শীতের মহড়া। শীতার্ত মানুষ গরম কাপড় না পেয়ে কেউ পুরাতন শীতের কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন। শীতের কবল থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন দরিদ্ররা। এছাড়া সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় চলমান বোরো আবাদের বীজতলা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক বীজতলা সাদা হয়ে মরে যাচ্ছে। এতে বোরো আবাদ নিয়ে মহাচিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

তীব্র শীতের দাপটে বাদ পড়ছে না গৃহপালিত পশুপাখিও। কৃষকরা চটের বস্তা গায়ে পরিয়ে গবাদিপশুকে শীতের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, বেশ কিছু দিন যাবৎ একদমই রোদ উঠছে না। আমি ৮ কেজি হাইব্রিড জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। আমার বীজতলা ঠান্ডার কারণে সাদা সাদা হয়ে যাচ্ছে, বেড়ে উঠছে না। বোরো ধান লাগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

নালিতাবাড়ী উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশিদুজ্জামান ইমরান বলেন, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো আবাদে কৃষকের বীজতলার বেশ ক্ষতি হচ্ছে। এজন্য আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বীজতলায় ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া বিকেলবেলায় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরদিন সকালে বীজতলা থেকে পানি বের করে দিতে বলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজুয়ানা আফরিন বলেন, আমরা সরকারিভাবে ২ হাজার ৬৬০টি শীতের কম্বল পেয়েছি। এর মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ১৮০টি করে, পৌরসভায় ৮০টি এবং স্থানীয়ভাবে ৫০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আমি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের মাঝে কিছু কম্বল বিতরণ করেছি। শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে আরও কম্বল বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝