ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে কাঁপছে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী। তাপমাত্রা নিম্নগামী হয়ে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। সন্ধ্যার পর নামছে ঘোর কুয়াশা। সেই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ, জানিয়েছে স্থানীয় রাজারহাট আবহাওয়া অফিস।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে শীত। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় উপজেলা জুড়ে শীতের দাপট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ধরলা ও বারোমাসিসহ বিভিন্ন নদনদীর চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। শীত যেন রূপ নিয়েছে এক গভীর মানবিক সংকটে।
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ভ্যান চালক হাক্কু মিয়া ও জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ঠান্ডা এত বেশি যে গাড়ি নিয়ে বের হলে শরীর শীতল হয়ে যাচ্ছে। হাত-পা কাঁপছে। গাড়ি চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। এমন ঠান্ডা আগে দেখিনি।”
জেলার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, “আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা এমনই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস এবং বাতাসে আর্দ্রতার উচ্চ মাত্রার কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।”
শীতার্ত মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও মানবিক সহায়তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে এবং নগদ ৫৪ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে, জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
এসি/আরএন