ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
রাজশাহীতে ১ ভোট পেলেন রসুল, তালেবের ভোট গেল কোথায়?
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:৪২ পিএম আপডেট: ২৭.১২.২০২১ ৮:১৫ পিএম
পরিবার, প্রতিবেশী ও এলাকার ভোটারদের আশ্বাসে রাজশাহীর চারঘাটের শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী হয়েছিলেন গোলাম রসুল। ইচ্ছা ছিল ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের সেবা করবেন। তবে রোববারের ভোট গণনা শেষে দেখা যায় তিনি একটি ভোট পেয়েছেন।

এদিন সন্ধ্যায় শলুয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রিসাইডিং অফিসার। এতে দেখা যায়, গোলাম রসুল ফুটবল প্রতীক নিয়ে শুধু একটি ভোট পেয়েছেন। তবে তিনি নিজের ভোটটিও নিজেকে দেননি। পরিবারে স্ত্রী ও সন্তানসহ তিনজনের ভোট থাকলেও কারও ভোট তিনি পাননি। একটিমাত্র ভোট তাকে কে দিয়েছে সেটাও তিনি জানেন না।

পরিবারের সদস্যদের ভোট না পেয়ে অনেক দুঃখ পেয়েছেন জানিয়ে গোলাম রসুল বলেন, গ্রামের বাসিন্দারা ভোট দেননি, এটা তেমন কিছু নয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যের কেউ ভোট না দেয়ায় এবং নিজের ভোটটিও দিতে না পারায় ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর আশ্বাসে ভোটে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে কারো সমর্থন পাইনি। সবাই অন্য প্রার্থীকে নিয়ে ব্যস্ত। টাকা-পয়সা খরচ না করায় কেউ আমাকে সমর্থন দেয়নি। ভোটে দাঁড়ানোয় বউ-ছেলেও রাগ করেছিল। এ অবস্থায় ভোটের দিনে পাসের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এজন্য নিজেও নিজেকে ভোট দিইনি। কে একজন আমাকে ভোট দিয়েছে জানি না। তবে পরিবারের কেউ দেয়নি।

ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার বজলুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে সঠিকভাবে ভোট গণনা করা হয়েছে। সেখানে রসুল ফুটবল প্রতীকে শুধুমাত্র এক ভোট পেয়েছেন। আশরাফ আলী মোরগ প্রতীক নিয়ে ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ছিলেন আবু তালেব। বেলঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার পর তিনি পেয়েছিলেন শূন্য ভোট।

আবু তালেবের দাবি করেছিলেন, সব ভোটের সাথে তাঁর নিজের দেয়া ভোটটিও চুরি করেছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

জানা যায়, আবু তালেব বেলঘরিয়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এর আগেও সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এবারও তিনি মোরগ মার্কা প্রতীক নিয়ে মেম্বার পদে ভোট করছিলেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিংকু আলী। তিনি ফুটবল প্রতীকে ১ হাজার ১১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় প্রথমবার ভোট গণনায় ফলাফলে জানানো হয়, আবু তালেব শূন্য ভোট পেয়েছেন। ফলাফলের এই বার্তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীর সর্মথকরা আন্দোলন শুরু করেন এবং প্রশাসনসহ প্রিসাইডিং অফিসারদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

জানতে চাইলে আবু তালেব একটি মোবাইলে ভোট প্রদানের ছবি দেখিয়ে বলেন, এই যে ছেলেটা মোরগ মার্কা প্রতীকে ভোট দিয়েছে, মোবাইলে ছবিও তুলেছে তার ভোটটা কোথায় গেলো? যে ব্যক্তি ভোটে দাঁড়িয়েছে সে কি তার নিজের ভোটটাও কি কখনো দেয় না? পৃথিবীর কোথাও কি এমন ঘটনা ঘটেছে? কোনো জাতি কি এমন করে? এটা কিভাবে সম্ভব?

এরপর আবু তালেবের সমর্থকেরা চোর চোর বলে চিৎকার দিয়ে বলতে থাকেন, বিচার চাই, বিচার চাই। ভোট চোরের বিচার চাই। আমার সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এই নির্বাচন মানি না। বিচার চাই, বিচার চাই। এভাবে চিৎকার দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে এমন উত্তেজনামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে পুনরায় ভোট গণনা করা হয়। পরে তিনি ৮৩ ভোট পেয়েছেন বলে জানানো হয়।

বেলঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল জব্বারের বলেন, ভোটের এক বান্ডিল ব্যালট পেপার টেবিলের নিচে পড়ে থাকায় আমাদের চোখে পড়েনি। এ ভুলের কারণে প্রথমবার গণনায় আবু তালেব শূন্য ভোট পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে টেবিলের নিচে ব্যালট পেপার খুজে পাওয়ার পর পুনরায় ভোট গননায় তার প্রাপ্ত ফলাফল বেরিয়ে আসে।

প্রিজাইডিং অফিসারের এমন ভুলের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল আলম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। পরবর্তী গণনায় ভুল সংশোধন হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারদের এ ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীল হতে বলা হয়েছে।

-আরএইচ/এনএন


Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝