Thursday | 4 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Thursday | 4 June 2026 | Epaper

পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বাস

প্রকাশ: বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১, ৫:০৯ পিএম   (ভিজিট : ৩৭৩)


রাজশাহী মহানগরীর টিবিপুকুর এলাকায় পাঁচটি পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন ৩২টি পরিবার। ভবনগুলো অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যে কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাও বাসা ভাড়া বাঁচাতে পরিবারগুলো বছরের পর বছর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বাস করছেন।

পরিত্যক্ত এই আবাসিক ভবনগুলো রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি)। ভবনের বাসিন্দাদের পরিবারের কেউ আইএইচটি, কেউ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্য কোন দফতরের সাবেক বা বর্তমান চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো শুধু বাসাভাড়া বাঁচাতেই এখানে বাস করছেন।

সম্প্রতি টিবিপুকুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে দুটি দোতলা, একটি তিনতলা ও দুটি একতলা ভবন। ভবনগুলো একেবারেই জরাজীর্ণ। খুলে খুলে পড়েছে পলেস্তোরা, দেয়ালে দেয়ালে জন্মেছে গাছপালা। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল। দোতলা একটি ভবনের কাছে গিয়ে দেখা গেল একটি জানালারও রড নেই। রডের বদলে সেট করা হয়েছে কাঠ।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বাসিন্দাদের বেশিরভাগই এখানে বসবাস নিয়ে কথা বলতে চান না। তবে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দিনরাত তাঁরা দুটি আতঙ্কে থাকেন। যে কোন সময় গায়ের ওপর ভবন ভেঙে পড়তে পারে- এই চিন্তায় তাঁদের দুই চোখের পাতা এক হয় না। আবার যে কোন সময় তাঁদের উচ্ছেদ করা হতে পারে। উচ্ছেদ করলে সন্তানদের নিয়ে কোথায় উঠবেন তা নিয়েও তাঁরা সব সময় চিন্তিত থাকেন।

বাসিন্দারা জানান, আগে ভবনগুলোতে শুধু আইএইচটির কর্মচারীরা থাকতেন। কেউ কেউ ভবন ছেড়ে চলে যাওয়ায় রামেক হাসপাতাল, বক্ষব্যাধী হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধী হাসপাতালের কর্মচারীরাও ভবনগুলোতে পরিবার নিয়ে উঠেছেন। অনেকে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তাও তাঁরা পরিবার নিয়ে এখানে থাকেন। পরিত্যক্ত ভবন হওয়ায় এর ভাড়া দেওয়া লাগে না। সে কারণেই তাঁরা এখানে থাকেন।

দোতলা ভবনের নিচতলায় থাকেন আবদুর রাজ্জাক। তিনি জানালেন, তাঁর স্ত্রী হাসিনা খাতুন রামেক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। স্থায়ী চাকরি নয়, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী তিনি। যা বেতন পান তা দিয়ে বাসাভাড়া করে থাকা সম্ভব নয়। তাই ঝুঁকি নিয়ে এখানেই থাকেন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের আটবার নোটিশ করা হয়েছে। তাও তাঁরা ছেড়ে যাননি। ‘নিজ দায়িত্বে’ তাঁরা এখানে আছেন।

দোতলা আরেকটা ভবনের বারান্দায় বসেছিলেন শরিফা বেগম। তিনি জানালেন, তাঁর স্বামী আমিরুল ইসলাম আইএইচটির কর্মচারী ছিলেন। অনেক আগেই অবসর নিয়েছেন। এখন বাসা ভাড়া করে সেখানে গিয়ে থাকার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাঁদের নেই। তাই এ ভবনেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আছেন। শরিফা জানান, এসব ভবনে ৩২টি পরিবারের শতাধিক মানুষ থাকেন। ঝুঁকি নিয়ে শিশুরাও আছে পরিবারে।

রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ফারহানা হক বলেন, ভবনগুলো গণপূর্ত বিভাগ অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। এরপরও কিছু মানুষ থাকেন। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তাঁরা ‘নিজ দায়িত্বে’ থাকেন। অনেকে ভেতরটা নিজেদের মতো করে সংষ্কার করেছেন। তিনি জানান, পাঁচটি পরিত্যক্ত ভবন এবং আশপাশের অনেক জায়গা আইএইচটির। কিছু জায়গা রাস্তা সম্প্রসারণ করার জন্য সিটি করর্পোরেশন (রাসিক) গ্রহণ করবে বলে তিনি চিঠি পেয়েছেন। বাকি জায়গায় কী করা হবে? সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভবনগুলো আসলেই খুব ঝুঁকিপূর্ণ। করোনার কারণে দেড় বছরে আমরা সেগুলো নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। তবে সম্প্রতি আমি আমার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করেছি। দ্রুতই আইএইচটির অধ্যক্ষের সঙ্গে মিটিং করব। একটা ডিজিটাল সার্ভেও করব। তারপর ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে। প্রয়োজন থাকলে নতুন কোয়ার্টার করা হবে।’

এসআর



সম্পর্কিত   বিষয়:  রাজশাহী  


LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close