অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল কুল বরই চাষ করে ভাগ্য বদলে গেল এক প্রবাসীর। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিদেশ ফেরত আব্দুস সালামের মুখে এখন হাসি ফুটেছে।
ইউটিউব দেখে উৎসাহিত হয়ে মেহেরপুর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ১৬০টি চারা কুড়িয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আনেন। পরে ১০টি চারা মরে যায়। তারপর ১৫০টি চাড়া নিয়ে আব্দুস সালাম তার বাড়ির পাশে পৈতৃক ২৫ শতাংশ জমিতে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল কুল বরই চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
৮ মাসের মাথায় সবকটি গাছেই কুল ধরে আছে। বরই চাষে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এখন প্রতি সপ্তাহে অনলাইনে বড়ই বিক্রয় করেন সাত থেকে আট হাজার টাকার। দিন যতই যাচ্ছে ততই চাহিদা বাড়ছে। তার এই বরই বাগান দেখে আগ্রহী হচ্ছে উপজেলার অনেক ছাত্র-ছাত্রী, যুবক ও কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫ শতাংশ জমিতে বরই বাগান করেছেন আব্দুস সালাম। এই মৌসুমে তার বাগানের প্রতিটি গাছে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপলে কুল ছেয়ে আছে। ফলের ভারে গাছসহ ডালগুলো নিচের দিকে ঝুলে পড়েছে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা হয়েছে প্রতিটি গাছ। পাখি ও চোরের হাত থেকে বরই রক্ষায় পুরো বাগান চারপাশে জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য বাগানের এক পাশে উঁচু করে মাঁচা করে রেখেছেন। রাতে বাগান মালিক আব্দুস সালাম টোলে বসে বাগান পাহারা দেন। এই ধরনের বড়ই চাষ করে আব্দুস সালাম এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার কমলগঞ্জ পৌর এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের কুমড়াকাফন গ্রামের কৃষক আব্দুল খালিকের ছেলে আব্দুস সালাম। জীবিকার তাগিদে ভাগ্য বদলের আশায় দালাল চক্রের মাধ্যমে গিয়েছিলেন বিদেশ। বিদেশ গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন কাজ করতে না পেরে হতাশ হয়ে যান। প্রায় তিন বছর পর বাংলাদেশ রিয়াদ এম্বেসির মাধ্যমে খালি হাতে দেশে ফিরে আসেন আব্দুস সালাম।
দেশে আসার পর আব্দুস সালাম আত্মনির্ভরশীল হওয়ার তাগিদে নানান চেষ্টা করেন। তখন দার দেনা করে ২৫ শতাংশ জায়গায় এই বিদেশী বরইয়ের চাষ করেন। কুল চাষে প্রায় ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, প্রায় এক লাখ টাকার অধিক বল সুন্দরী কুল বরই বিক্রি করতে পারবেন। তবে এই কুল চাষে তেমন খরচ নেই বলে জানান সালাম। শুধু চারা সংগ্রহ করতেই একটু সমস্যা।
আব্দুস সালাম ও তার ভাই সাবেদ আলী বলেন, ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে উদ্যোগ নেই আমরা। এরপর সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে কুল চাষের জন্য ২৫ শতাংশ জমিতে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল বরই চাষ শুরু করি। আমরা ভাবিনি এতো ফলন হবে। ইনশাআল্লাহ আগামীতে কষ্ট করে হলেও আরও বড় ভাবে চাষের চেষ্টা করবো। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে আমার উপকার হবে। সহজেই বড় পরিসরে বল সুন্দরী কুল বরই চাষ করতে পারবো।
আব্দুস সালাম বলেন, আশা করছি বরইগুলো বিক্রি করলে আমার আর কোনও অভাব থাকবে না। এই উপজেলায় অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপলে কুল বরই এই প্রথম চাষ হয়েছে। অনলাইনে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। অনলাইনে চাহিদা বেশি থাকায় খুচরা বাজারে তুলিনি। এবার দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।
কমলগঞ্জ পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ বলেন, আমার পৌর এলাকার ভেতরে এত সুন্দর অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী আপেল বরই চাষ করা হয়েছে তা জেনে আমি জায়গা পরিদর্শন করি। কৃষক আব্দুস সালামকে পৌরসভার পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হবে। তার এই কাজে যুব সমাজ উপকৃত হবে। অন্যরা এই কাজে উৎসাহ পাবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর পৌর এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আব্দুস সালামকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
-এমএ