নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে প্রায় লাখো মানুষ। বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে আঞ্চলিক উন্নয়ন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেও মিলছে না প্রতিকার। নীরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগণ।
দু’তিন গজ পর পর গর্ত। কোথাও ছোট আবার কোথাও বড় বড় গর্ত। গর্তে জমে আছে অথৈ পানি। আর গর্তে পরে ছোট-বড় গাড়ি উল্টে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। সামান্য বৃষ্টি হলে পাকা রাস্তায় কাঁদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলোবালি।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই সড়কের এমন দুরাবস্থা থাকলেও বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেও প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগণ রহস্যজনক ভাবেই নীরব। এতে দিন-দিন ভোগান্তি বাড়ছে এলাকাবাসীর।
অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন কোম্পানির পাথর, কয়লা, বিভিন্ন শিপইয়ার্ডের মালামাল বোঝাই ৩৫/৪০ টনের ট্রাক, রাস্তার পাশে বালুর গদি করে ট্রাকে বালুর ব্যবসা, নিষিদ্ধ ইছারমাথা-লড়ি এবং অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়কে ছোট-বড় হাজারো খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের রূপগঞ্জ থানা কার্যালয়ের পর থেকে ফজুরবাড়ীমোড়-জাঙ্গীর-পিতলগঞ্জ-ভক্তবাড়ি-কাঞ্চনব্রিজ-শিমুলিয়া-কাজিরবাগ-দেবই-বেলদী এবং ফজুরবাড়ি মোড় থেকে দক্ষিণবাগ-বাঘবেড়-সিটি মার্কেট এলাকার রাস্তাগুলো প্রায় ৩ বছর ধরে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ এই রাস্তার উপর নির্ভর করেই রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা কার্যালয়, সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস এবং উপজেলার প্রধান ডাকঘরে সেবা নিতে আসে লাখো মানুষ। এছাড়াও এই রাস্তার পাশে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্ডেন, মসজিদ ও মাদ্রাসা। আর রাস্তার নাজেহাল দশায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের।
ফজুরবাড়ী মোর এলাকার রাশেদ বলেন, অতিরিক্ত খানাখন্দের কারণে সড়কটি চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর ৪ কি. মি. রাস্তায় চলাচলের খরচ লাগছে ৫০-৮০ টাকা। আবার কখনো অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও গাড়ি পাওয়া যায় না।
হারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জুবায়ের, সামিয়া, লামিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, রাস্তা ভাঙ্গা, খানাখন্দ থাকায় স্কুলে আসা যাওয়ায় অসুবিধায় পড়তে হয়। বৃষ্টি হলে গর্তের পানি ও কাঁদা লেগে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
অটোচালক শরিফ মিয়া বলেন, গেল সপ্তাহে গর্তে পড়ে অটোর এক্সেল ভেঙ্গে যায়। পড়ে ১৫শ’ টাকা দিয়ে মেরামত করার ছয় দিন পর আবার গর্তে পরে গাড়ির চাকা ভেঙ্গে যায়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় খানাখন্দ থাকা স্বত্তেও বিকল্প রাস্তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে যাত্রীরা এ রাস্তা ব্যবহার করছেন।
উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, এ রাস্তায় কতটুকু ওজনের গাড়ি চলাচল করবে তা নিয়ে কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে বিভিন্ন কোম্পানির পাথর, লোহা, কয়লাসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল বোঝাই ৩৫/৪০ টনের গাড়ি চলার কারণে রাস্তাটি ক্রমেই ভেঙ্গে পড়েছে।
রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাটি ভেঙ্গে পড়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায়ই ইট বালি দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করছি। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই পুনরায় ভেঙ্গে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, ভারী যানবহন চলাচলে নিষেধ করেছি। এছাড়া রাস্তা সংস্কার কিংবা নির্মাণের বিষয়ে কোন জনপ্রতিনিধি আবেদন করেনি। আবেদন পেলে সরকারি নিয়মানুযায়ী সড়ক মেরামত করা হবে।
-এমএ