‘ওয়ান ম্যান শো’ যাকে বলে! সতীর্থ ব্যাটাররা কেউ ফিফটিও করতে পারেননি। তাওহীদ হৃদয় বলতে গেলে একা হাতে বাংলাদেশকে টানলেন। কে বলবে, ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছেন!
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় হৃদয়ের নামের পাশে ১৯০ রান। সঙ্গে লোয়ার অর্ডার ব্যাটার তাসকিন আহমেদ। সাদমান ইসলাম ইনজুরিতে পড়ায় তাসকিনই কার্যত বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ ব্যাটার। আউট হলেই শেষ।
সেই তাসকিনকে নিয়েই মহাকাব্যিক এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। এক প্রান্ত ধরে ধরে ৩০৪ বলে এই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটার।
হৃদয়ের ইনিংসে বিরাট অবদান রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। দু’জনের ১১৭ রানের জুটিতেই ৩০০ পার করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই জুটির ইতি টানেন জোমেল ওয়ারিকেন।
দিনের চতুর্থ শিকারে তাইজুলকে ব্যক্তিগত ২২ রানে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন ওয়ারিকেন। ৩০১ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ রান করে মুশফিক জোমেল ওয়ারিকেনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন।
এরপর লিটনও ফিরেছেন মাত্র ৮ রান করে। মুশফিকের মতো ওয়ারিকেনের বলে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।
হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যক্তিগত ১৬ রানে। তাতে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। তার বিদায়ে ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। ১ রানের বেশি করতে পারেননি হাসান মাহমুদ। ওয়ারিকেনের তৃতীয় শিকার হন লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে।
এর আগে, ২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। সেদিন ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। নতুন বলে শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২২ রানেই ২ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
সাদমান ইসলামের চোটে ওপেনিং নামা নাঈম হাসান ৫ রানে ফেরার পর বিদায় নেন তানজিদ হাসান তামিমও। কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচে থামার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান।
আশা করা হচ্ছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয় হাল ধরবেন। কিন্তু সেটি হয়নি। ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।
টিআই