বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটা দারুণভাবে শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতে মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহামের ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্যারিবীয়রা। দিন শেষে ৭০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ২৩৫ রান।
সকালে সিলেটের উইকেটে কিছুটা আর্দ্রতা থাকায় নতুন বলে দারুণ বোলিং করেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। তাসকিনের দুর্দান্ত সুইংয়ে বোল্ড হন ব্র্যান্ডন কিং। পরে জশুয়া ডা সিলভাকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। অন্যদিকে কাভেম হজকে বোল্ড করে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ।
২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পথ দেখান আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহাম। চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন ১৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমে ১৪৫ বলে ৬১ রান করেন উইকহাম। তবে ৫০তম ওভারে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
উইকহাম বিদায় নিলেও দারুণ ছন্দে ব্যাটিং চালিয়ে যান জাঙ্গু। ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। দিন শেষে ১৭১ বলে ১১১ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। অন্য প্রান্তে ৬২ বলে ৩৫ রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন জাস্টিন গ্রিভস। পঞ্চম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৭৭ রান।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন। তবে দিনের শেষভাগে আলোস্বল্পতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একবার মাঠে ফিরে পাঁচ ওভার খেলা হলেও পরে আবার আলো কমে যাওয়ায় প্রথম দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
ম্যাচ শেষে ব্রিফিংয়ে তাসকিন আহমেদের কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ। তাঁর মতে, দলে আরও একজন পেসার থাকলে উইকেট তুলে নেওয়া কিছুটা সহজ হতো। বাংলাদেশের পেস আক্রমণে একজন বাড়তি বোলারের অভাব কতটা অনুভূত হয়েছে, তাঁর মন্তব্যে সেটিই উঠে এসেছে।
প্রথম তিন উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশি বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহ গড়া থেকে আটকে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে জাঙ্গু ও গ্রিভসের জুটি ভাঙতে পারলেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে কতটা এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নাকি বল হাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
এফএস