ব্যাটিং নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা কাটছেই না। মিরপুর টেস্টে বাজে ব্যাটিংয়ে হারের পর সিলেটে নিজেদের প্রথম ইনিংসের শুরুটাও ভালো হয়নি স্বাগতিক ব্যাটারদের। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। তবে আলোকস্বল্পতার কারণে আগেভাগেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে। এর আগে ৩ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮৮ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়রা ৩৫৬ রান করেছে। তাদের পক্ষে আমির জাঙ্গু সর্বোচ্চ ১৩৩, কেভিন উইকহ্যাম ৬১ ও জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান মাহমুদ টেস্টে পঞ্চম ফাইফারসহ শিকার করেছেন ৬ উইকেট। দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে হৃদয় ২৯ ও মুশফিক ১৬ রানে অপরাজিত আছেন।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন নাঈম হাসান। সাদমান ইসলাম অ্যাঙ্কলের চোটে পড়ায় সিলেটে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন নাঈম। অথচ এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও কখনো ওপেন করেননি তিনি। নাঈমের নতুন এই অভিজ্ঞতা অবশ্য স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। জেইডেন সিলসের করা পঞ্চম ওভারে ৫ রান করে স্লিপে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
১৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর তিনে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের টেস্টে কনকাশন বদলি হওয়া মুমিনুল হক নিয়মানুযায়ী এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না। ফলে তাঁর পজিশনে উন্নীত হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এরপর জাস্টিন গ্রিভসের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে শট খেলার চেষ্টায় পয়েন্টে ক্যাচ দেন তানজিদ। অভিষিক্ত উইকহ্যামের শূন্যে লাফিয়ে নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচে ১৬ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ২২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
দলের হাল ধরার দায়িত্ব ছিল অধিনায়ক শান্তর ওপর। কিন্তু হৃদয়কে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও সফল হলো না। তাঁদের ২৯ রানের জুটি ভেঙে শান্তর স্টাম্প উড়িয়ে দেন শামার জোসেফ। আউট হওয়ার আগে অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। এরপর হৃদয় ও মুশফিক দেখেশুনে খেলে বাকি সময় পার করার চেষ্টা করেন।
যদিও আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার পর তাঁদের আর মাঠে নামা হয়নি। ৩৭ রানের জুটিটা আরও বড় করার লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল তৃতীয় দিনের খেলায় ব্যাটিংয়ে নামবেন তাঁরা।