ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে পাকিস্তানের সামনে ৩২৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান করেছে দলটি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন কামিন্দু মেন্ডিস। তাঁর সঙ্গে পাভান রত্নায়েকের বড় জুটিই দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়।
কামিন্দু ১২৮ বলে ১৩১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও দুটি ছক্কা। ওয়ানডেতে এটি তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। শতরান পূর্ণ করতে তিনি খেলেন ১০৭ বল। অন্যদিকে, পাভান রত্নায়েকে ৬৫ বলে ৭৭ রান করেন, যেখানে ছিল আটটি চার।
শুরুতে সতর্ক ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকে শ্রীলঙ্কা। উদ্বোধনী জুটিতে আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কামিন্দু মেন্ডিস যোগ করেন ৮৭ রান। আভিষ্কা ৪৯ বলে ৩৮ রান করে সালমান আলী আগার বলে আউট হন। এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সালমানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তাঁর সংগ্রহ ১২ বলে ৮ রান। ১০৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
এরপর কামিন্দুর সঙ্গে জুটি বাঁধেন পাভান রত্নায়েকে। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১৪৬ রান। এই জুটিতে শ্রীলঙ্কা বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায়। ২৫৫ রানে কামিন্দু আউট হলে ভাঙে জুটি। ৪১তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।
কামিন্দুর বিদায়ের পরও রান তোলার গতি ধরে রাখেন রত্নায়েকে। তবে শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ান। ৪৫তম ওভারে হারিস রউফের বলে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রত্নায়েকে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। শেষ ১০ ওভারে ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে রান তোলার গতি কমিয়ে দেন পাকিস্তানি বোলাররা।
দাসুন শানাকা ৯ বলে ১৭ রান করে কিছুটা গতি বাড়ান। শাহিনের বলে আউট হওয়ার আগে তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। সahan আরাচ্চিগে করেন ১২ বলে ১৫ রান। মাহিশ থিকশানা ৫ বলে ৭ এবং আসিথা ফার্নান্দো ৩ বলে ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান আলী আগা ও হারিস রউফ দুটি করে উইকেট নেন। শাহিন ১০ ওভারে ৫০, নাসিম ১০ ওভারে ৮০, সালমান ৭ ওভারে ৪৪ এবং হারিস ১০ ওভারে ৬০ রান দেন।
ফাইনালে পাকিস্তান টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা পাকিস্তানের সামনে এখন ৫০ ওভারে ৩২৬ রান করার চ্যালেঞ্জ। এর আগে লিগ পর্বে দুই দলই একে অপরকে হারিয়েছে। ফলে লাহোরের ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে বাড়তি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে।
এসএস