বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর এবং বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ঘর থেকে ঢাকা ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে খুলনার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের কড়া সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তারা বলেছিলেন, ৭০ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছেন।
গদিতে বসার পর তারা জনগণের তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার অপচেষ্টা চলছে।নারী ও কৃষকদের নামে যেসব কার্ড বিতরণ করা হয়েছিল, তার সুবিধা প্রকৃত মানুষ পায়নি বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।তিনি বলেন, ‘কার্ডের টাকা চুরি হয়ে কি লন্ডনে নাকি শ্রীলঙ্কায় চলে গেছে? কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এক বা দুই হাজার টাকা দিয়ে মাস শেষে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের নামে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ মানুষ ঠিকমতো গ্যাস বা বিদ্যুৎ পায়নি। সুস্পষ্টভাবে দেশের মানুষের পকেট কেটে ডাকাতি করা হচ্ছে।’
কৃষকদের সার না পাওয়ার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কৃষকরা সার পায় না। কারণ ২৫-৩০ লাখ থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুসের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব লুটপাটের বিরুদ্ধে আমরা মাঠে নেমেছি।’জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমেছি আমাদের প্রাণপ্রিয় সাড়ে ১৫ বছরের শহীদ এবং বিশেষ করে জুলাইয়ের শহীদদেরহত্যার বিচারের দাবিতে।
আমরা সরকারি দলের চাঁদাবাজদের হাত থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে চাই। জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচারের যে মহোৎসব শুরু হয়েছিল, তা রুখে দিতেই আমাদের এই আন্দোলন।’ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক কর্মসূচি চলবে। আমরা ঢাকা থেকে লংমার্চ করে খুলনায় এসেছি। যদি দরকার হয়, খুলনা থেকে ঢাকা যাওয়ার ডাক দেওয়া হবে।
তখন গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে ঢাকায় হাজির হতে হবে। আমাদের এই দাবি কোনো একক দল বা জোটের নয়, বরং এদেশের প্রতিটি মানুষের বাঁচার দাবি। আমরা শুধু ১১ দলের বিজয় চাই না, আমরা এদেশের প্রতিটি নাগরিকের বিজয় ও মুক্তি চাই। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, সাম্যের ও মানবিক বাংলাদেশ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরীর জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। খুলনায় পথসভা পরিচালনা করেন খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। এসময় ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
টিআই