সদ্য সমাপ্ত ইসরায়েলি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর পক্ষে নতুন সরকার গঠনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে বিরোধী ‘চেঞ্জ’ জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে কোনো প্রধান জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে তা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহুর জোটের হাতে থাকা ৫৩টি আসনই এখন তার প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তির প্রতিফলন। এ ফলাফলের পর নেতানিয়াহুর পক্ষে সরকার গঠনের কোনো পথ খোলা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদায়ী নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের ৬৮টি আসন ছিল উল্লেখ করে এবারের ফলাফলকে তার জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেন লাপিদ। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ।
তবে বিরোধী জোটের ফলাফলকে সরাসরি বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে দেখছেন না লাপিদ। বরং পয়েন্টের ব্যবধানে জয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকার গঠন নিয়ে বিদ্যমান জটিলতার কথাও স্বীকার করেন।
লাপিদ বলেন, এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো সরকার গঠনের চেষ্টা করা। নির্বাচনী প্রচারণার তুলনায় সরকার গঠনের আলোচনা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রক্রিয়া। এ আলোচনা ধীরে ধীরে পর্দার আড়ালে এগিয়ে যায়। সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া কঠিন হবে এবং এর সফলতা নিয়ে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।
এদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের সরকার ধরে রাখার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে কট্টর ডানপন্থী দল জিউইশ পাওয়ারের নেতা ইতামার বেন-গভির নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অন্যদিকে ‘চেঞ্জ’ জোট ও আরব দলগুলোর আসন একত্রে ৬৭টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের চেয়ে এ সংখ্যা বেশি হলেও আরব দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চেঞ্জ জোটের অংশ নয়। তাদের সঙ্গে সরকার গঠন কিংবা রাজনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
‘ডেমোক্র্যাটস’ দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে বিরোধী জোটের নেতাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ দলের নেতা আভিগদোর লিবারম্যান আরব দলগুলোর অংশগ্রহণে সরকার গঠনের বিরোধিতা করছেন।
সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের গাণিতিক সম্ভাবনা থাকলেও জোটগত সমীকরণ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আরব দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
-টিএস