সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের চাকসা গ্রামের কৃষক নেকবার সর্দার। কৃষিকাজই যাঁর জীবিকার প্রধান অবলম্বন, স্বল্প পুঁজি আর নিজস্ব জমিতে দেশি জাতের খিরা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ৪৭ শতাংশ জমিতে খিরার আবাদ করে এখন ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম পেলে উৎপাদিত খিরা বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন এই কৃষক।
কৃষক নেকবার সর্দার জানান, খিরা চাষে জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বাবদ এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সীমিত বিনিয়োগে ভালো মুনাফার আশায় তিনি দেশি জাতের খিরা বেছে নেন। এখন তাঁর একমাত্র প্রত্যাশা, গাছে ভালো ফলন টিকিয়ে রাখা এবং বাজারে খিরার চাহিদা ও দাম অনুকূলে থাকা।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কৃষিকাজে লাভের পাশাপাশি সবসময়ই কিছু ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে আবহাওয়ার তারতম্য, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা কৃষকের লাভ-লোকসানে বড় প্রভাব ফেলে। খিরার মতো সবজির ক্ষেত্রে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে প্রত্যাশিত লাভ ঘরে তোলা কঠিন হয়। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো বাজার পেলে অল্প জমিতেও দুর্দান্ত আয় করা সম্ভব।
গ্রামবাংলার কৃষিতে সবজি চাষ অনেক কৃষকের জন্যই এখন বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। তুলনামূলক কম পুঁজি বিনিয়োগ করে বেশি লাভের আশায় অনেক কৃষক বিভিন্ন মৌসুমি সবজি আবাদে ঝুঁকছেন। তবে উৎপাদনের পাশাপাশি সঠিক বাজারজাতকরণ, পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা কৃষকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চাকসা গ্রামের কৃষক নেকবার সর্দারের ৪৭ শতাংশ জমির খিরা আবাদও ঠিক তেমনই এক সম্ভাবনার গল্প। মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো প্রাথমিক খরচে বড় অঙ্কের মুনাফার প্রত্যাশার এই স্বপ্ন এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রকৃতি ও বাজারের অনুকূলতার ওপর।
নেকবার সর্দারের প্রত্যাশা, তাঁর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে খিরা বিক্রির এই আয় তাঁর সংসারে বাড়তি স্বস্তি এনে দেবে এবং আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে কৃষিকাজে উৎসাহ জোগাবে।
এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন জাতের শর্ষা ও খিরা চাষ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে চাষ হওয়া জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে— গ্রীন বয়, সরিষা গোল্ড, আইস গ্রীন, ময়না মতি, সুফলা-১, আরিশা গ্রীন কিং এবং বিভিন্ন স্থানীয় উন্নত জাত।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমি ‘দৈনিক যমুনার কথা’কে জানান, “উল্লাপাড়া উপজেলাতে গত বছর শর্ষা ও খিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬০ হেক্টর। তবে নানা কারণে এবার আমরা ১২৫ হেক্টর জমিতে এই আবাদ অর্জন করতে পেরেছি।”
এসএ