চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার জেরে যুবদলের দুই কর্মীকে কুপিয়েছে মাদক কারবারিরা। হামলায় সৈয়দ নূর ও সৈয়দ আমিন নামে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।তাদের মধ্যে সৈয়দ আমিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে গণধোলাইও দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রতনপুর মৌলভীবাজার এলাকায় মো. মহসিন ও তার সহযোগী আবু তাহের দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী সৈয়দ নূরকে টর্চলাইট দিয়ে অতর্কিত হামলা করেন মহসিন। এ সময় বাধা দিতে গেলে সৈয়দ আমিন নামে আরেক কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন মহসিনের সহযোগী আবু তাহের।স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় স্থানীয় জনতা মাদক কারবারি মহসিনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
যুবদল কর্মী সৈয়দ নূর জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহসিন ও তার সহযোগীরা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তারা এতে বাধা দেওয়ায় শুক্রবার রাতে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।এদিকে, এ ঘটনায় গুরুতর আহত সৈয়দ আমিন রাত ১২টার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পটিয়া থানায় যান। তিনি জানান, পটিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলার বিচার চাইতে এবং নিজের শারীরিক অবস্থা ও ক্ষত দেখাতে তিনি মধ্যরাতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে যান।স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কফিল উদ্দীন জানান, মনসিন ও আবু তাহেরের মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় সৈয়দ নুর ও সৈয়দ আমিনের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়েছে।পটিয়া যুবদলের সংগঠক মো. সাখাওয়াত জানান, সৈয়দ নূর ও সৈয়দ আমিন দুজনই যুবদলের কর্মী। মাদক কারবারিরা তাদের দুজনকে জখম করেছে।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এখন লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এসএ