কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতিও পেয়েছে পেট্রোবাংলা। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসটি থার্মোজেনিক বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গ্যাসের উৎস ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ঘটনাস্থল ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সময় গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে তা বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আপাতত আগুন নেভানো কিংবা গ্যাস নির্গমনের পথ বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, জোর করে আগুন নেভানো বা গ্যাস বের হওয়ার পথ বন্ধ করা হলে ভূগর্ভে গ্যাস জমে উচ্চচাপ তৈরি হতে পারে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি রয়েছে।
শুক্রবার (৩১ আক্টোবর) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক বলে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে কিছুটা তেলের মিশ্রণ বা উচ্চ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতিও রয়েছে। গ্যাসের উৎস ও পরিমাণ নিশ্চিত হতে ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় আগুনের শিখার উচ্চতা এবং গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মো. শোয়েব আরও বলেন, পর্যবেক্ষণ শেষে আগুনের শিখা একই রকম থাকলে বা উচ্চতা বাড়লে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। মূল কূপের পাশ দিয়ে বিকল্প কূপ খনন করে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধের চেষ্টা করা হবে। তবে এর মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনোভাবেই জোর করে আগুন নেভানো বা গ্যাস বের হওয়ার পথ বন্ধ করা যাবে না। এতে ভূগর্ভে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আশপাশের স্তর থেকেও বের হচ্ছে গ্যাস
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় আশপাশের কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাস জ্বলতে দেখা গেছে বলে জানান পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা। ভূগঠনের পরিবর্তনের কারণে এসব স্তর দিয়ে গ্যাস বের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বাপেক্স ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূগর্ভে গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক মজুত পাওয়া গেলে সেখানে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসএ