জর্ডানের একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনার জেরে প্রতিবেশী সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও এক নারী রয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর জর্ডানের সঙ্গে প্রধান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া। হামলাটি দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় গত শুক্রবারের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
জর্ডানের দাবি, গির্জায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিরিয়ায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিমান হামলায় এসব গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং তাদের একাধিক যানবাহন ধ্বংস হয়েছে।
গির্জায় হামলায় অন্তত নয়জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিরিয়ার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দারা ও সুয়েইদা প্রদেশের অন্তত চারটি স্থানে হামলা চালানো হয়।
দারা প্রদেশের আল-তাই গ্রামে একটি তাঁবুতে হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী ও তিন শিশু রয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।
দারা প্রদেশের আল-শাইয়াহ এলাকায় আরেকটি হামলায় ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ছাড়া সুয়েইদা প্রদেশের শাহবা শহরে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ৬০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সিরিয়ার সরকার এ দাবি অস্বীকার করেছে।
সিরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পূর্বসমন্বয় বা আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই এ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা জানিয়েছে দেশটি।
বিমান হামলার পর জর্ডান-সিরিয়া সীমান্তের নাসিব ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়ার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ। এটি দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের প্রধান সীমান্তপথ।
সীমান্ত বন্ধের ফলে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত ও বাণিজ্যিক পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গির্জায় হামলার ঘটনায় সোমবার জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য—দুই ভাই ও তাঁদের ভগ্নিপতি। গ্রেপ্তারের আগে কারাক গভর্নরেটের আল-জাদিদা গ্রামে তাঁদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় তিন ঘণ্টা গোলাগুলি হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র সংগঠন ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
গির্জায় হামলার পর জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। ওই ঘটনায় দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।
এফএস