ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আসামের হোটেলে এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৫
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের রাজধানী গুয়াহাটির একটি হোটেলে এলোপাতাড়ি গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের আর্থিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গুয়াহাটির জিএস রোডসংলগ্ন বোরা সার্ভিস এলাকার ‘বিলাস ইন’ হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও একজন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাইসেন্সপ্রাপ্ত পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি পিস্তলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে বোরা সার্ভিস এলাকার একটি গলিতে অবস্থিত ‘বিলাস ইন’ হোটেল থেকে একটানা গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে গুয়াহাটি পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হোটেলের ভেতরের কক্ষ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হোটেলের বাইরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) নেয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সত্যেন্দ্র পাঠক নামের এক হোটেলকর্মীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তার হাতে গুলি লেগেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন হোটেলটির মূল মালিক হেলেনা ভরালি, তার ছেলে এষাণ কাশ্যপ ওরফে দেবর্ষি কাশ্যপ, তার দাদা ভূদেব ভরালি, নারায়ণ দাস এবং আরও একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো জঙ্গি হামলা বা আকস্মিক সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

‘বিলাস ইন’ হোটেলটির মূল মালিক ছিলেন বরপেটার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত ধ্রুব ভরালি। তার মৃত্যুর পর হোটেলটির মালিকানা পান তার স্ত্রী হেলেনা ভরালি ও তার পরিবার। প্রায় এক বছর আগে হোটেলটি পরিচালনার জন্য ঘনকান্ত গগৈকে লিজ দেন হেলেনা। এরপর থেকে লিজের চুক্তি, বকেয়া টাকা এবং হোটেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঘনকান্তের সঙ্গে হেলেনা ও তার পরিবারের বিরোধ চলছিল।

সোমবার রাতে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা বৈঠক বা আলোচনার সময় বিরোধ চরমে ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘনকান্ত গগৈ নিজের ৩২ বোরের পিস্তল বের করেন। এরপর হোটেলের মালিকপক্ষ ও কর্মচারীদের লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘনকান্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে পাশের পল্টনবাজার এলাকায় আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তবে গুয়াহাটি পুলিশের একাধিক দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতে ফরেনসিক ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষা চলছে।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝
Advertisement