খুলনার ডুমুরিয়ায় অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে আনিসুর রহমান পলাশ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে এসআরবি-৬। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৬-এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আনিসুর রহমান পলাশ উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান মাহমুদের ছেলে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডুমুরিয়া ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রস্তুত এবং তা অন্য পশুর মাংস হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের পর শনিবার ভোরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঘোড়ার মাংস প্রস্তুতের সময় পলাশকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এসআরবি-৬-এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিহাদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
পরে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আটক ব্যক্তিকে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহেল রানার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অপরাধ স্বীকারের ভিত্তিতে তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
অভিযানের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিহাদ বলেন, “গত প্রায় দুই মাস ধরে এসআরবি-৬ এই চক্রটির কর্মকাণ্ড সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছিল। তারা গোপনে ঘোড়া জবাই করে মাংস বাজারজাত করার চেষ্টা করছিল। শনিবার ভোরে ঘোড়া জবাইয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আলামতসহ একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের প্রতারণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা বলেন, “অপরাধ স্বীকার ও আলামত-প্রমাণের ভিত্তিতে আটক ব্যক্তিকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আনিসুর রহমান পলাশকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সৈকত মোঃ সোহাগ / এফএস