চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে অলরেডরা। সাত গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে লিভারপুলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তরুণ উইঙ্গার রিও এনগুমোহা। দুই গোলে সহায়তা করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।
ম্যাচের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি লিভারপুলের। জর্জেস মিকাউতাদজে ও সার্জি কার্ডোনার গোলে ২৯ মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভিয়ারিয়াল। রক্ষণভাগের দুর্বলতায় তখন চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
তবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় লিভারপুল। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে ব্যবধান কমানোর পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে রোনাল্ড আরাউহোর গোলে সমতায় ফেরে দলটি। আরাউহোর গোলের পেছনে ছিল এনগুমোহার দারুণ সহায়তা।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লিভারপুল। এনগুমোহা নিজের ব্যক্তিগত দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বল বাড়ান ম্যাক অ্যালিস্টারকে। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ফ্লোরিয়ান ভির্টজের গোলে ব্যবধান ৪-২ করে লিভারপুল।
ম্যাচের শেষ দিকে তানি ওলুসেয়ির গোলে ব্যবধান কমিয়ে আবারও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে ভিয়ারিয়াল। শেষ মুহূর্তে লিভারপুলের ওপর চাপ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
গোল না করেও ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন রিও এনগুমোহা। তাঁর দুটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বল পায়ে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের। ১৮ বছর ৫২ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হয়ে অ্যাসিস্ট করে ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে লিভারপুল। তবে ম্যাচের শুরুর দিকে রক্ষণভাগের দুর্বলতা দলটির জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকছে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও এমন প্রত্যাবর্তন লিভারপুলের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ। আর অ্যানফিল্ডের এই রাতে এনগুমোহা বুঝিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।
এফএস