কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ছয়জনই পরস্পরের আত্মীয়- তাঁরা খালাতো ভাইবোন। আগুনে তাঁদের শরীর পুড়ে যাওয়ায় মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য সিআইডির সদর দপ্তরে যান স্বজনেরা। সিআইডির মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, এদিন ছয়জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও একজন সোমবার নমুনা দিতে আসবেন।
নিহতদের মধ্যে মোহাম্মদ নাফিস ইসতেহামি ও ফারিহা কবিরের মরদেহ শনাক্ত করতে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসেছেন তাঁদের বাবা জেয়াদুল কবির। তাঁর সঙ্গে এসেছেন দুই মেয়ে ইশরাত জাহান মালিহা ও লায়লা জাহানের বাবা মো. মামুনুর রশিদ।
এ ছাড়া সাত বছর বয়সী ফাইজান নূরের মরদেহ শনাক্ত করতে নমুনা দিতে এসেছেন তাঁর বাবা মো. নূরে আলম। মিথিলা মেহেজাবীন আরভীর পরিচয় শনাক্তের জন্য নমুনা দিয়েছেন তাঁর বাবা শাহজাহান।
জেয়াদুল কবির, মামুনুর রশিদ ও শাহজাহান পরস্পরের ভায়রা ভাই। অন্যদিকে, নূরে আলম সম্পর্কে জেয়াদুল কবিরের জামাতা।
ডিএনএ নমুনা দিয়ে সিআইডি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় জেয়াদুল কবির বলেন, “আমাদের পরিবারের ছয়জনের লাশ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সবাই পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “ওদের লাশ কবে নাগাদ শনাক্ত হবে, তা এখনও বলতে পারছি না। এখান থেকে আশ্বাস দিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ শনাক্ত করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কত দিন লাগবে, তা বলতে পারছে না।”
সন্তানদের মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানদের তো আর আমরা ফিরে পাব না। কিন্তু তাদের মরদেহগুলো যেন যত দ্রুত সম্ভব সবকিছু সম্পন্ন করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”
-টিএস