ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
হুথি হামলা : সৌদিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করল ফ্রান্স
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা প্রতিহত করতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স। ইতোমধ্যে সৌদি আরবে নিজেদের বিভিন্ন সামরিক সম্পদ ও সক্ষমতা মোতায়েন করা শুরু করেছে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ এই সামরিক শক্তি।

বহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাসকাল কনফারেক্স। সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পনারা জানেন যে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা কেবল সৌদির নিরাপত্তা বা এই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না; এর ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছি আমরাও। জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখে পরতে হবে আমাদের।”

“তছাড়া আপনার এ-ও জানেন যে গত ২৪ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ফ্রান্স সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে ইয়ানাবু পূর্ব-পশ্চিম করিডোর রক্ষায় সহযোগিতা করবে। সেই প্রতিশ্রুত সহযোগিতার অংশ হিসেবেই সৌদিতে সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন যে, তিনি সৌদি আরবে সৈন্য ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবেন, যাতে লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দর শহর ইয়ানবুকে সুরক্ষিত রাখা যায়—যা জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সে সময় ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন যে, এ মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হবে ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে সীমাবদ্ধ রাখা।


এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, “আমরা এই স্থানটিকে সুরক্ষিত রাখতে সামরিক সম্পদ—অর্থাৎ সৈন্য, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছি।”

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ফ্রান্স কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে না। তিনি আরও জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে ইউরোপে ডিজেল, অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দর শহর ইয়ানবু। এর ফলে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তাদের পণ্য রপ্তানি করতে পারছে। গত সেপ্টেম্বরে ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধারা ড্রোন হামলার মাধ্যমে এই পাইপলাইনটির ক্ষতিসাধন করে, যার জের এটি বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া গত সপ্তাহে হুথিদের একটি হামলায় ইয়ানাবুতে ‘ইয়াসরেফ’ নামে একটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে সেটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় সৌদি আরব। সৌদিতে হুথিদের ক্রমাগত হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে এবং ডিজেল সরবরাহের সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সেপ্টেম্বর মাসে, ম্যাক্রোঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে ফ্রান্স ওই স্থানটির সুরক্ষায় রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পারে কি না, তখন তিনি জানান যে বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, কিছু যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে রয়েছে।

পারস্য উপসাগর তীরবর্তী সৌদি আরবের তেল উৎপাদন কেন্দ্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত ৭৫০ মাইল বিস্তৃত ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি যুদ্ধের সময়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করেই সৌদি অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। আশির দশকের শুরুর দিকে, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় যখন পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছিল, সে সময় এই পাইপলাইনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement