পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে বাজারে সংকট তৈরির অভিযোগে ফিলিপাইনে ছয়টি কোম্পানিকে ১৭৬ কোটি পেসো বা ২ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ আনুমানিক ৩৪৩ কোটি টাকা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ফিলিপাইনে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৮০০ পেসোতে পৌঁছায়। এতে পেঁয়াজের দাম দেশটির দৈনিক ন্যূনতম মজুরিকেও ছাড়িয়ে যায় এবং মাংসের চেয়েও বেশি হয়ে পড়ে।
পেঁয়াজের এই মূল্যবৃদ্ধি তৎকালীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রকে চাপে ফেলে। খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়।
২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৩ সালের শুরুর কয়েক মাসে পেঁয়াজের সংকটে রেস্তোরাঁর মেনু থেকেও পণ্যটি বাদ পড়ে যায়। পেঁয়াজ চোরাচালানের চেষ্টা এবং বিয়ের তোড়ায় পেঁয়াজ ব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটে।
ফিলিপাইনের প্রতিযোগিতা কমিশন (পিসিসি) জানায়, অভিযুক্ত ছয়টি কোম্পানি পেঁয়াজ আমদানিকারক, সংরক্ষণ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত। ২০২০ ও ২০২১ সালে দেশটির পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদিত ছাড়পত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
কমিশনের ভাষ্য, কোম্পানিগুলো পেঁয়াজ আমদানি, হিমাগারে সংরক্ষণ ও পাইকারি বিতরণে অবৈধভাবে বাজার ভাগ করে নিয়েছিল। দেশটির একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটিও বলেছে, কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
পিসিসি জানিয়েছে, ২০১৬ সালে কমিশন গঠনের পর এটিই তাদের আরোপ করা সবচেয়ে বড় জরিমানা। অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে স্থানীয় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন বাজারে আসার পর সংকট কমে এবং দাম স্থিতিশীল হয়।
এফএস