ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বিক্ষোভে নেই কোন কোন নেতা, হিসাব রাখছেন রাহুল গান্ধী
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩০ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

ভারতীয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। বিক্ষোভে কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই সরাসরি ভূমিকা রাখছেন রাহুল। দলটির নেতাদের দাবি, তার এই তৎপরতায় বিক্ষোভে বিরোধী জোটের সমন্বয় বেড়েছে।

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে সামনে রেখে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। এতে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন।

অনুপস্থিত নেতাদের হিসাব রাখছেন রাহুল

কংগ্রেসের একাধিক নেতার ভাষ্য, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী নিজেই সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়ে খোঁজ রাখছেন। বিক্ষোভের প্রথম দুই দিনে যেসব নেতা উপস্থিত ছিলেন না, তাদের তালিকা তৈরি করতে দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালকে নির্দেশ দেন তিনি।

দলীয় সূত্রের দাবি, রাহুলের এই উদ্যোগের পর সাধারণত রাজপথের কর্মসূচিতে কম দেখা যায়—এমন নেতারাও বিক্ষোভে যোগ দিতে শুরু করেন।

গত ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার আগে রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা দলের নেতাদের জানিয়ে দেন, অনুপস্থিতির পক্ষে কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচিতে পৌঁছানোর বিষয়েও কড়াকড়ি করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা কর্মীদের জন্য দিল্লিতে থাকার ব্যবস্থা করে কংগ্রেস। দলের আকবর রোডের কার্যালয় কর্মীদের থাকার জন্য খুলে দেওয়া হয়। হরিয়ানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুদা ও তার ছেলে দীপেন্দর সিং হুদাও কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করেন।

শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা

কংগ্রেসের এই কর্মসূচিতে বিরোধী জোটের শরিকদের যুক্ত করতেও সক্রিয় রাহুল গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং সিপিএমের এম এ বেবিসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে কয়েকটি কর্মসূচিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে, কোনো কোনো কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতাদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে ছোট দলগুলোকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রায় রাহুলের সঙ্গে খোলা ট্রাকে শরিক দলের নেতা ও ছাত্রনেতাদেরও জায়গা দেওয়া হয়। তাদের জায়গা করে দিতে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে ট্রাক থেকে নেমে যেতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিরোধী জোটের নেতাদের মতে, এবারের কর্মসূচিতে কংগ্রেসের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেছে। দলটি এককভাবে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বদলে অন্য দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছে।

‘ভোট চুরি’ অভিযোগে একমত বিরোধীরা

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছে। দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনিয়ম হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে ‘ভোট চুরি’র সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পর তাদের অভিযোগ আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়ে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের মধ্যে এখন ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

বেণুগোপাল আরও বলেন, কেরালায় কংগ্রেস ও সিপিএমের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস পরস্পরের প্রতিপক্ষ। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদে দলগুলো একসঙ্গে কাজ করছে।

কংগ্রেসের তৎপরতা নিয়ে আশাবাদী নেতারা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’ অভিযোগকে রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে রাখার বিষয়ে কংগ্রেসের ভেতরেও আগে দ্বিমত ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর দলের অনেক নেতা এখন তার পরবর্তী কর্মসূচির দিকে নজর রাখছেন।

এ ছাড়া গত দুই সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর অনুসারীর সংখ্যা বেড়েছে বলেও দলীয় সূত্রের দাবি। কংগ্রেসের নেতারা একে তাদের প্রচার ও আন্দোলনের প্রতি বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement