পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ এবং ইতিমধ্যে নেওয়া এ ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আজারবাইজানে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াং ই বলেছেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নকে চীন ধারাবাহিকভাবে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সঠিক পথ। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অবিলম্বে সেখানে পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সব পক্ষকে দ্রুত সংলাপে ফিরিয়ে আনতে এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াং ই আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় মিথস্ক্রিয়া ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়াতে চীনের উদ্যোগ
গত সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করেন। সেখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বাইরের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং। এ পরিস্থিতিতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মুখপাত্রের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছাতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।
গত মার্চেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে চীন। যুদ্ধ শুরুর পর ওয়াং ই তাঁর ইসরায়েলি প্রতিপক্ষ গিদেওন সারকে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল।
ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কিনেছে বেইজিং। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছর মেয়াদি একটি ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ চুক্তি স্বাক্ষর করে।
অন্যদিকে, গত এক দশকে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে চীন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলেরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে রয়েছে দেশটি।
এফএস