ভালোবাসার টানে বয়সের ৪৫ বছরের ব্যবধানও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ভারতের উত্তর প্রদেশে ৭৫ বছর বয়সী রামসুগহারের সঙ্গে বাগদান সেরেছেন ৩০ বছর বয়সী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার রীনা রাজপুত।
তাদের বাগদানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বলছেন, ভালোবাসার কাছে বয়সের ব্যবধান তুচ্ছ; আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, জনপ্রিয়তা বাড়াতেই কি এমন সম্পর্কের ঘোষণা?
ভারতের উত্তর প্রদেশের ওরাইয়া জেলায় ঘটেছে এ ঘটনা।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারে আংটি বদলের মাধ্যমে বাগদান সারেন রামসুগহার ও রীনা। দুই পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রীনা জানিয়েছেন, নবরাত্রি উৎসবের পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। রামসুগহার থাকেন জেলার সাহার এলাকার আরিয়ারি গ্রামে।
অন্যদিকে, রীনা রাজপুতের বাড়ি ওরাইয়া শহরের দয়ালপুর এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরির সূত্রেই তাদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
রামসুগহার জানান, প্রায় দুই বছর ধরে রীনার তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। তার মেয়ে রাধা ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করেন। রীনা নিয়মিত রাধার সঙ্গে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কাজে তাদের বাড়িতে যেতেন। এভাবেই ধীরে ধীরে রামসুগহার ও রীনার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
রাধা জানান, প্রায় সাত বছর আগে তার মা মারা গেছেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে রীনার যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে রামসুগহার ও রীনা একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
বয়সের ব্যবধান নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন রীনা। তার ভাষ্য, ৪৫ বছরের বয়সের পার্থক্য নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। বিয়ের সিদ্ধান্তে তিনি খুশি এবং জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত। তার মতে, ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স বাধা হতে পারে না।
তবে বাগদানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদল তাদের সম্পর্ককে বয়সের সীমা অতিক্রম করা ভালোবাসার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদের সন্দেহ, অনলাইনে ভিউ ও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন আয়োজন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া