স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে এক পোশাকশ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আশপাশে অবস্থান করায় প্রাণনাশের ভয়ে ঘটনার পরপরই আইনের আশ্রয় নিতে পারেননি ২০ বছর বয়সী ওই নারী।
পরে স্বজনদের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শ্রীপুর থানায় গিয়ে মামলা করেন তিনি।
মামলায় ফারুক (৩২) ও নয়ন (১৯) নামে দুজনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর স্বামী শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় ভাড়া থাকেন। ওই নারী স্থানীয় ডিবিএল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ জন্য বাড়ির মালিককে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া দিয়ে মালামাল সরানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফারুক ও নয়ন বাসায় এসে ওই নারীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তিনি বাসায় ফিরলেও রাত ৯টার দিকে ওই দুই ব্যক্তি তাঁদের দুই সহযোগীকে নিয়ে আবার বাসায় আসেন। একপর্যায়ে তাঁরা ওই নারীর স্বামীকে মারধর করে পাশের কক্ষে আটকে রাখেন।
এজাহারে বলা হয়, এরপর নয়ন ওই নারীকে পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড বাড়ির কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ফারুক ও তাঁদের সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তিও তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর স্বামীর ভাষ্য, তাঁকে আটকে রেখে একাধিকবার মারধর করা হয়। অভিযুক্তরা তাঁকে জানান, তাঁর স্ত্রী টাকা আনতে গেছেন। পরে স্ত্রী তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা জানান। ঘটনার বিচার চাইতে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে সাহস পাননি।
অভিযুক্ত ফারুক সিলেট জেলার কোতোয়ালি থানার মাজারখানা এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকার আক্তার হোসেন দোলনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। অপর অভিযুক্ত নয়ন একই ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের মৃত সুলতান মুন্সির ছেলে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এফএস