সাতক্ষীরার দেবহাটায় আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে গণপিটুনিতে আহত যুবক ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে পুলিশ পাহারায় তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শামীম জেলার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুর রহমান সানার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীমের কয়েকটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই অডিওতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে যান। এ সময় শামীম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে উদ্ধার করে কুলিয়া এলাকার ডা. আব্দুস সবুরের চেম্বারে ভর্তি করেন।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কুলিয়ার ওই চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও দ্বিতীয় দফায় তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি পাহারায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে ঘেরাও করলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কিছু লোক হাসপাতালে ঢুকে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করে। অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি রাতে আরও জানান, নিহতের মরদেহ কেবল বাড়িতে এসেছে, দাফন শেষে পরিবার হয়তো আগামীকাল অভিযোগ দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার বিষয় নয়, আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি; সেগুলোর ভিত্তিতে ছায়াতদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
এমজেডআর/আরএন