ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার আজ বুধবার এই আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খন্দকার গোলাম ফারুক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হন। এক বছরের মতো এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, খন্দকার গোলাম ফারুকের ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ৫টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া খন্দকার গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের যৌথ নামে থাকা ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ২টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তিগুলোর মধ্যে ঢাকা ও টাঙ্গাইলে জমি ও প্লট রয়েছে ।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, খন্দকার গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং আয়কর নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে দায়বাদে নিট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকাসহ তার অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে তার আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা বেশি, যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে প্রতীয়মান হয়।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, খন্দকার গোলাম ফারুকের স্ত্রী শারমিন আক্তার খান একজন গৃহিণী। তার নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৩ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকাসহ তার অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে তার আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বেশি, যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে প্রতীয়মান হয়। অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে এই সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, বিক্রি বা অন্য কোনোভাবে গোপন বা বিলুপ্ত করার সুযোগ যাতে না থাকে এবং পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পদ সংরক্ষিত থাকে, সে জন্য অভিযুক্তদের নামে স্থাবর সম্পদসমূহ আদালতের মাধ্যমে ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদসমূহ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
টিআই