যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত তৃতীয় দেশের ২২ নাগরিককে গ্রহণ করেছে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী কিংস্টনের নরম্যান ম্যানলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্যামাইকার করা বিতর্কিত চুক্তির আওতায় এটিই প্রথম দল।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁদের পুলিশি পাহারায় একটি বাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজন নারী ও ১৫ জন পুরুষ রয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের অধিকাংশই দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক।
চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে জ্যামাইকা। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত যেসব অভিবাসীর গন্তব্য জ্যামাইকা নয়, তাঁদের সাময়িকভাবে গ্রহণ করা হবে। পরে নিজ দেশে অথবা তাঁদের গ্রহণে সম্মত অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
জ্যামাইকার সরকার জানিয়েছে, প্রতি দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৫ জনকে এই ব্যবস্থার আওতায় গ্রহণ করা হবে। তাঁদের আবাসন, দেখভাল ও পরবর্তী গন্তব্যে পাঠানোর কাজে সহায়তা করবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। এ ব্যবস্থার ব্যয় জ্যামাইকা সরকার বহন করবে না বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এমন কাউকে গ্রহণ করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে দেশটির সরকার।
তবে চুক্তিটি নিয়ে জ্যামাইকার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল ও নাগরিক অধিকারকর্মীরা চুক্তির শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ না করা এবং পার্লামেন্টে বিস্তারিত আলোচনা না হওয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, জাতীয় নিরাপত্তা, জনসেবা ও দেশের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন একটি চুক্তির বিষয়ে জনগণকে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে না কেন।
বিরোধী দলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র ফিটজ জ্যাকসন বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও জনসেবাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন একটি গোপন নথির বিষয়ে জনগণকে শুধু সরকারের আশ্বাসের ওপর নির্ভর করতে বলা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জ্যামাইকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির নথি প্রকাশে সম্মতি না দেওয়ায় তা জনসমক্ষে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর দাবি, জ্যামাইকার স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই চুক্তিটি করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ, তৃতীয় দেশে পাঠানোর এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীরা যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও নিজেদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে, নিজ দেশে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি থাকায় যাঁদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে, তাঁদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হলে নিরাপত্তার প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির বৈধতা নিয়ে দেশটির আদালতে আইনি লড়াইও চলছে। সমালোচকদের মতে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বহিষ্কারের ব্যবস্থা অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
এফএস