রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের অবসানে একটি স্থায়ী, টেকসই ও ন্যায়সংগত সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ চালিয়ে যাবে।
রুবিওর এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে।
এর আগে ৮ অক্টোবর পর্তুগাল সফরকালে রুবিও বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বিপজ্জনক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের বিস্তার প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্যদেশগুলোতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান জরুরি।
রুবিওর মতে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ সংঘাতের অবসানে মধ্যস্থতা ও সমঝোতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তাঁর প্রশাসনের বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা এবং রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো হলে মস্কো আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতিকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে মস্কো ও কিয়েভের আলোচনায় অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য সমঝোতার শর্তগুলোর ওপর।
এফএস