ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সহিংসতা ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ী রবিউল হাসানের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাটের শিকার হওয়ার পর অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) লন্ডন সময় রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার দাতার কাছ থেকে সংগৃহীত অনুদানের পরিমাণ ৯০ হাজার ৪০৩ ইউরো ছাড়িয়ে যায়।
গত ১৭ অক্টোবর প্যারিসের বুলভার মাশেন্টা এলাকায় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে রবিউল হাসানের পরিচালিত ‘রাফিদ ইনফরম্যাটিক্স’ নামের দোকানটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাটের শিকার হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন এই প্রবাসী উদ্যোক্তা।
এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সহায়তার আবেদন। অল্প সময়ের মধ্যেই বহু মানুষ এতে সাড়া দেন। তাঁদের এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক শক্তিরও উৎস হয়ে উঠেছে।
অনলাইন তহবিলে ব্যাপক সাড়া
রবিউল হাসানকে সহায়তার জন্য ‘লেইচি’ নামের একটি অনলাইন ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ‘আইদ আ হাসান লিকা মোবাইল বুলভার মাশেন্টা’ শিরোনামে খোলা তহবিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার লন্ডন সময় রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ এতে অনুদান দেন। তাঁদের সম্মিলিত সহায়তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ হাজার ৪০৩ ইউরোর বেশি।
দোকানটির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত নিরাপত্তা শাটার মেরামত ও নতুন পণ্য সংগ্রহ করে ব্যবসা পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে এই সহায়তা কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংকটে সংহতির নজির
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি লুটপাটের শিকার হওয়ার পর রবিউল হাসানের পাশে স্থানীয় মানুষের এভাবে এগিয়ে আসা বহুজাতিক প্যারিসের নাগরিক সংহতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতির বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন দাতারা। স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও তহবিল সংগ্রহের আয়োজকেরা সংগৃহীত অর্থের ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ তদারক করছেন।
সহিংসতা ও লুটপাটের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, সংকটের সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক সংহতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা রবিউল হাসানের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা তাই কেবল আর্থিক সহায়তার গল্প নয়; এটি ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও ঐক্যেরও একটি উদাহরণ।
-টিএস