মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি ভবনে হামলার পর ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলায় সীমিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ রাজধানী রিয়াদের আবাসিক এলাকায় পড়ে। এতে চারজন আহত হন এবং কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় হুতিদের জ্বালানি স্থাপনা এবং জ্বালানি মজুতকেন্দ্র লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। জোটের দাবি, এসব স্থাপনা ব্যবহার করে হুতিরা সামরিক তৎপরতা পরিচালনা করছিল। বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে জোট।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত চলবে। এ ক্ষেত্রে ত্যাগ স্বীকার করতে হলেও পিছু হটার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে হুতিরা বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছিল। পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এফএস