আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ ও বৈদেশিক লেনদেনের বিভিন্ন সূচক তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির অক্টোবর ২০২৬ সংস্করণে বাংলাদেশের ২০২৬ সালের বাস্তব মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ৪.৭ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, মাথাপিছু জিডিপি, বেকারত্ব, চলতি হিসাবের ভারসাম্য, সরকারি বাজেট ঘাটতি ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য এবং পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য গতিপথ বিশ্লেষণে এসব সূচক গুরুত্বপূর্ণ।
জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির চিত্র
এপ্রিল ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জিডিপির পরিমাণ ছিল ৫১০ দশমিক ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৯১০ ডলার। একই পূর্বাভাসে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং বছর শেষে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ঋণ
এপ্রিল ২০২৬-এর পূর্বাভাসে বাংলাদেশের সরকারি বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সরকারি মোট ঋণ জিডিপির ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। একই সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ঋণের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়, সুদ পরিশোধের ব্যয় এবং সরকারি বিনিয়োগের প্রবণতাও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, চলতি হিসাবের ভারসাম্য বিশ্লেষণে রপ্তানি-আমদানি, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক লেনদেনের অন্যান্য উপাদান বিবেচনায় নিতে হয়।
প্রবৃদ্ধি বাড়লেই কি বাড়বে মানুষের স্বস্তি?
জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ নির্দেশ করলেও তা দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান পুরোপুরি বোঝা যায় না। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে আয় বাড়ার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা কেনার সক্ষমতা চাপে থাকতে পারে। একইভাবে, মাথাপিছু জিডিপি দেশের গড় উৎপাদন বা আয়ের একটি পরিমাপ; এটি প্রত্যেক নাগরিকের প্রকৃত আয় কিংবা সম্পদ বণ্টনের চিত্র নয়।
এফএস