নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের সেন্টার বাজারসংলগ্ন বিরবিরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে মহব্বত হোসেন নামে এক মাছচাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহব্বত হোসেন ‘ধানিয়া মৎস্য খামার’ নামে একটি খামার ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে খামারে গিয়ে পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন তিনি। পরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে ধারণা করেন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা জাল দিয়ে পুকুরের মাছ তোলার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে অধিকাংশ মাছ মরে পচন ধরতে শুরু করে।
খামারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলায় বাজারে বেশি দামে বিক্রির আশায় বিভিন্ন পুকুর থেকে মাছ এনে ওই পুকুরে মজুত করা হয়েছিল। সোমবার সকালে মাছগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় তাঁর সেই আশা ভেঙে গেছে।
খামারের মালিক মহব্বত হোসেন জানান, পুকুরে প্রায় ২০ থেকে ২২ মণ তেলাপিয়া মাছ ছিল। বর্তমান বাজারদরে এসব মাছ প্রায় ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হতো। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু মাছগুলো মরে যাওয়ায় তাঁর সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রবাসী নুর হোসেন জানান, মহব্বত হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে দেশে ফিরে কয়েকটি এনজিও থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। মাছগুলো মরে যাওয়ায় তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এ বিষয়ে সেন্টার বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। সকালে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছি। খামারি মহব্বত একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
তবে পুকুরে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় এখনো কারও সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টিআই/আরএন