ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে তিনি চাহিদাভিত্তিক ও ফলাফলমুখী কর্মী চলাচলের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অভিবাসন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে উভয় পক্ষ এ খাতে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইইউর অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়ে এ আহ্বান জানান। এ বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম) বাস্তবায়নে সরকার ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) গ্রহণ করেছে।
বৈঠকে ইইউ কমিশনার ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ‘ইস্টার্ন করিডর ইনিশিয়েটিভ’ তুলে ধরেন। এ উদ্যোগে অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে সহযোগিতায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে নথিপত্র জালিয়াতি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
এছাড়া, বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। ।
বৈঠক শেষে অভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে একমত হয় বাংলাদেশ ও ইইউ।
টিআই