ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও দিল্লির ছয়টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রেখেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। সোমবার (১২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুবিধা বন্ধ থাকবে।
তবে স্টেশনগুলোতে মেট্রো বদল বা ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা চালু থাকবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএমআরসি।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো প্যাটেল চক, জনপথ, রাজীব চক, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও বারাখাম্বা রোড।
সোমবার ভোরে এক ঘোষণায় ডিএমআরসি জানায়, নিরাপত্তার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রোববার সুপ্রিম কোর্ট দিল্লিতে মেট্রো ও রেল সেবা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া আটক করা যাবে না বলে জানান সর্বোচ্চ আদালত।
আদালত আরও বলেন, নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে গিয়ে গণপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না। এতে সাধারণ মানুষের বড় ধরনের ভোগান্তি হতে পারে।
এর আগে শনিবার দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছিল ডিএমআরসি। এর আগে ১০ অক্টোবর শহরে বিক্ষোভের পর ৫৭টি স্টেশন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ ও জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে রোববার জরুরি শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ।
শুনানিতে আদালত মেট্রো ও রেল সেবা স্বাভাবিক রাখা, আইন মেনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখা এবং মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক না করার নির্দেশও দেওয়া হয়। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকার বাইরে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ নির্দেশের ওপর গুরুত্ব দেন আদালত।
আদালত বলেন, সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন হলে আইনসম্মত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা যেন সাধারণ মানুষের চলাচল ও গণপরিবহন ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি না করে।
এদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় (SIR) অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
রোববার সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এক্সের এক পোস্টে জানান, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি বা তারিখ চেয়ে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হবেন। তিনি বলেন, আগামীকাল সকাল ১০টায় আমি, সৌরভ দাশ, রত্ন সিং এবং সিজেপির অন্য নেতারা পার্লামেন্টারি স্ট্রিট থানায় যাব, যাতে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য একটি তারিখ পাওয়া যায়। দিল্লি পুলিশ যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের তারিখ দেয়, তবে ভালো; অন্যথায় আমরা নিজেরাই পরবর্তী বিক্ষোভের ডাক দেব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস