সকালে স্কুলের পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের ভিড়, কর্মস্থলে ছুটে চলা শ্রমিক আর বাজারমুখী মানুষের ব্যস্ততা—সবকিছুর মাঝেই প্রতিদিন পার হতে হয় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। দ্রুতগতির যানবাহনের ফাঁক গলে সেই পারাপার যেন এমসি বাজারের মানুষের নিত্যদিনের ঝুঁকি। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা চাইলেও তা ছিল অধরাই। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ।
গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য, আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা। ব্রিজটি চালু হলে প্রতিদিন মহাসড়ক পারাপারকারী হাজারো মানুষের ঝুঁকি কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এমসি বাজারে মহাসড়কের দুই পাশে রয়েছে হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন, মসজিদ ও মাদ্রাসা। শুধু হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। এর সঙ্গে রয়েছে ১০ থেকে ১৫টি শিল্পকারখানা। ফলে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও এ সড়ক ব্যবহার করেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় মহাসড়কের ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে বিদ্যালয় শুরুর ও ছুটির সময়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার ছিল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যস্ত সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা।
সওজ সূত্র জানায়, এমসি বাজার-শিশু পল্লী সড়ক এবং হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজমুখী সড়কের দক্ষিণ পাশে ব্রিজটির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে হাজী হাসেন আলী মুন্সি মার্কেটের সামনে থেকে স্কুল রোডের দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।
হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কের পূর্ব পাশ থেকে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হতো। অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ হলে নিরাপদে রাস্তা পারাপার করা সম্ভব হবে।’
শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা জুঁই বলেন, ‘প্রতিদিন রাস্তা পার হওয়ার সময় ভয় কাজ করত। এখন ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলে আমরা নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারব।’
এমএম ইউনাইটেড কিন্ডারগার্টেনের অভিভাবক সুমন বলেন, ‘প্রতিদিন সন্তানকে নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় ভয় লাগে। ব্রিজটি হলে আমাদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে।’
হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ আবদুল হান্নান সজল বলেন, ‘এমসি বাজারে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এখানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আশপাশে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা রয়েছে। শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হতো। দীর্ঘদিনের দাবির পর কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী।’
নির্মাণকাজের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাকিব হাওলাদার বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ শেষ হলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।’
গাজীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর আহমেদ বলেন, ‘শিশু পল্লী রোডের দক্ষিণ পাশে এমসি বাজার এলাকায় ফুটওভার ব্রিজটির কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে কাজটি শেষ হবে।’
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি ফুটওভার ব্রিজের। এখন এর নির্মাণকাজ চলছে। ব্রিজটি নির্মাণ হলে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এ এলাকার শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।’
দীর্ঘদিনের দাবির পর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এখন স্থানীয়দের চোখ ব্রিজটির দিকে। তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে এবং দ্রুত তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তখন ব্যস্ত মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার সময় আতঙ্ক নয়, নিরাপত্তাই হবে এমসি বাজারের মানুষের ভরসা।
এসএ